নারায়ণী সেনা নিয়ে মিথ্যে বলছে কেন্দ্রীয় সরকার, তোপ মমতার

153

কোচবিহার: নারায়ণী সেনা নিয়ে মিথ্যে কথা বলছে কেন্দ্রীয় সরকার, বুধবার এমনই দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কোচবিহার উত্তরে নির্বাচনি জনসভা করেন মমতা। সেখানেই একথা বলেন তিনি। এদিন কোচবিহার উত্তরের প্রার্থী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, নাটাবাড়ির প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক সমর্থনে ওই জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন। এছাড়া মমতা তৃণমূল শাসিত রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তিও তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তিনি নাম না করে তিনি নিশীথ প্রামাণিক ও মিহির গোস্বামীকেও তীব্র আক্রমণ করেন।

তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন দাবি করেন, ‘নারায়ণী সেনা নিয়ে মিথ্যে কথা বলছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজবংশী মানুষদের ‘ধোকা’ দিয়েছে কেন্দ্র। আর আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে নারায়ণী ব্যাটালিয়ন করে দিয়েছি। যার হেডকোয়ার্টার কোচবিহারে।’ গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘বিজেপি শুধু ভাগাভাগি করে, আসলে কোনও কাজ করে না। ওরা দাঙ্গা করে, লুট করে। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে বিক্রি করে দিচ্ছি। ক্ষমতায় এলে বাংলাকেও বিক্রি করে দেবে।’

- Advertisement -

পাশাপাশি মমতা এদিন কিছুটা হুঁশিয়ারির ঢঙে বলেন, ‘আমি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো লড়াই করি। ভাঙি তবু মচকাই না।’ তাঁর মুখে খেলা হবে স্লোগান শোনা যায় এদিন। এছাড়া বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার কথাও বলেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, বাংলায় বেকারত্ব, দারিদ্র্য কমেছে। বাংলায় ছেলে মেয়েরা ভালো আছে।

এদিন বাণেশ্বরের সভা থেকে নাম না করে মিহির গোস্বামীকে আক্রমণ করেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, ‘আমাদের ২০০টি আসনে জিততে হবে, নাহলে বিজেপি টাকা খাইয়ে ফের কিছু গদ্দারকে নিজের দলে নিয়ে নেবে। রবির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এক গদ্দার। চিরজীবন তিনি ট্রান্সপোর্টের চেয়ারম্যান, ডেভলপমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন। সব কিছু করে খেয়ে ভোটের আগে তাঁকে বিজেপি করতে হচ্ছে। তিনি নাকি মহান নেতা। কোনওদিন ঘর থেকে বেরোয় না, একটা কাজ পর্যন্ত করে না। আর গিয়েছে রবি ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে!’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অভিজিৎ দে ভৌমিক, গোপালকৃষ্ণ দাস, বংশীবদন বর্মন, শিখা দাস, পরিমল রায় সহ তৃণমূল একাধিক নেতারা। তৃণমূল সুপ্রিমোর জনসভার পর বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার জেলায় ভালো ফলের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী ঘাসফুল শিবির।