এমন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী আগে দেখিনি, মোদিকে কটাক্ষ মমতার

154

কাঁথি: এমন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী আগে দেখিনি, রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের জনসভায় এভাবেই নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোটের আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দিন বাকি। ২৭ মার্চ প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের ৩০টি আসনে ভোট হবে। তার আগে প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল-বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষত দুই মেদিনীপুর জেলায় প্রচারে জোর দিয়েছেন মোদি-মমতা। শনিবার খড়গপুরের জনসভা থেকে তৃণমূলকে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তাঁর পালটা হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ কাঁথি, উত্তর কাঁথি ও নন্দকুমারে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এদিনই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা’র জনসভায় বিজেপিতে যোগ দেন শিশির অধিকারী। সেজন্য নাম না করে কাঁথির অধিকারী পরিবারকে কটাক্ষ করেছেন মমতা।

- Advertisement -

রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের দক্ষিণ কাঁথিতে প্রথম জনসভা করেন তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো। এরপর তিনি উত্তর কাঁথিতে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। সেখান থেকে নন্দকুমারের যান। তিন জায়গাতেই মমতার নিশানায় ছিল বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার। মমতার পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পূর্বে জনসভা করেন। অন্যদিকে, বাঁকুড়ার তিলাবেদিয়া ময়দানে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তোপ-পালটা তোপে রীতিমতো সরগরম ভোটের আগের শেষ রবিবাসরীয় দুপুর।

কিছুদিন আগে নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন মমতা। সেদিন রাতে বিরুলিয়া বাজারে তিনি পায়ে গুরুতর চোট পান। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। সেই প্রসঙ্গে মমতা এদিন বলেন, ’তোমরা আমার এক পা ভেঙেছ। ভেবেছিলে, আমি এক পা দিয়ে কিছুই করতে পারব না। কিন্তু আরেক পা দিয়েই এমন এক শট মারব যে একেবারে বাংলার বাইরে গিয়ে পড়বে।‘

বাংলায় কর্মসংস্থান নিয়ে বার বার সরব হয়েছে বিরোধীরা। এখানে বেকারত্বের হার বাড়ছে বলে অভিযোগ বিজেপি, বাম-কংগ্রেস জোটের। তবে তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন দাবি করেন, দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। আর এরাজ্যে কমেছে। সেইসঙ্গে এদিন ব্যাংক, রেল, বিএসএনএল, এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দাগেন মমতা।

নাম না করে কাঁথির অধিকারী পরিবারকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘আমি সহজেই সকলকে বিশ্বাস করে ফেলি। এটাই আমার স্বভাব। সেকারণে আমি ঠকে যাই। তবে এতে বিশ্বাসঘাতকদের মুখোশ খুলে যায়।‘

শুভেন্দু ও শিশিরের নাম না করে মমতা বলেন, ‘বিজেপিতে না গেলে আমরাই ওঁদের দল থেকে তাড়িয়ে দিতাম। এই এলাকার রাস্তাঘাটের প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। সেসব আমিই করেছি। আর গদ্দাররা নাম করেছে।‘

নন্দকুমারের জনসভায় মমতা বলেন, ‘ক্ষমতায় ফিরলে গরিবদের জন্য ৩৮ লক্ষ আবাসন তৈরি করা হবে।’ ভোটের কথা মাথায় রেখে এদিন সুলভে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণাও করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে সুলভে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।‘ মোদিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘এমন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী আগে দেখিনি।‘

এদিন ভোট প্রার্থনা করতেও শোনা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। তিনি বলেন, ‘প্রার্থী যেই হোন না কেন ভোট আমাকেই দিন। আমি সরকার গড়ব।’