‘আগে ওঁরা মারত এখন এঁরা মারে, সিপিআইএমের হার্মাদরাই বিজেপির ওস্তাদ’, তোপ মমতার

105

নিউজ ডেস্ক: ২৭-এ শুরু বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে ঝাড়গ্রাম ও গোপীবল্লভপুরে জোড়া সভায় রবি ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার লাইনকেই হাতিয়ার করে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘‌হেনকালে হায় যমদূত প্রায় কোথা হতে এল মালী/ঝুঁটি–বাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি!‌’‌ এই লাইন দিয়েই শুরু করেন বাংলার নেত্রী। আসলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বিজেপিকে নিয়ে এলে বাংলার এই শিক্ষা–সংস্কৃতি শেষ হয়ে যাবে। তাই বাংলা ও বাঙালিকে বাঁচাতে তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প। তাই বুধবার ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের সভা থেকে তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা চান আমি থাকব না, নিশ্চয়ই আপনারা আপনাদের মতো ভোট দিতে পারেন। এটা আমার মা–ভাই–বোনদের উপর ছেড়ে দেব। উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়। ধর্ষণ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় মেয়েদের। এই তো বিজেপি রাজ্য।’

- Advertisement -

করোনা ভ্যাকসিন বিনামূল্যে রাজ্যবাসীকে দিতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ঘোষণার আগেই আমি চিঠি লিখেছিলাম, সবাইকে ভ্যাকসিনটা দেওয়া হোক। এখনও অনুমতি দেয়নি। নরেন্দ্র মোদি ভোট নেওয়ার জন্য বিহারে গিয়ে বলেছিলেন সবাইকে কোভিড টিকা দেব। কিন্তু আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সব।’‌

ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের সভার মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পায়ের আঘাতে নিয়ে বিজেপিকে দায়ী করে বলেন, ‘‌আমাকে সবসময় মারত। আগে সিপিআইএম আমাকে মারত, এখন বিজেপি মারছে। সিপিআইএমের হার্মাদরাই বিজেপির ওস্তাদ হয়েছে। আমার মাথা চুরমার করে দিয়েছিল, চোখে কাঁচ ঢুকিয়ে দিয়েছিল। অপারেশন করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমায় কোমরে বেল্ট পরতে হয়, আমাকে হাতে মেরেছে, আমাকে পেটে মেরেছে, শুধু বাকি ছিল পা। সর্বশেষ আমার পায়ে আঘাত করল। পায়ে আঘাত করলে মানুষ দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু আমি আমার লক্ষ লক্ষ মা–বোনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াব।’

এরপরই দলবদলুদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আর কিছু কিছু গদ্দার আছে। যাঁরা শুধু টাকাকে ভালবাসে, লোভী। সেগুলো বিজেপিতে গিয়ে ঢুকেছে। লুঠেরা, দাঙ্গাবাজ। আমরা চোর, ওরা সাধু? সব থেকে বড় দুর্নীতির দল। দুঃশাসন রাজ ভারতে চালাচ্ছে। সারা ভারতকে শেষ করে দিয়েছে। নোটবন্দির নামে মানুষকে শেষ করে দিল। মোদিকে বলব, ভাষণ কম দাও। মিথ্যে কথা বলে ভোট নিয়েছে। কাউকে বলেছে ৫০০ টাকা নাও, মিছিলে যাও। কাউকে বলেছে ৫০০০ টাকা নাও, বিজেপিকে ভোট দাও। মনে রাখবেন এটা বিজেপির টাকা না। ওরা কিছু করেনি। একেবারে শূন্য। ওদের এবার শূন্য করে দিন।’‌