কলকাতা, ১৩ জুন : চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পদক্ষেপ করবে সরকার। এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এএসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে সমস্ত ডাক্তারকে। পাবলিককে পরিসেবা দিতে হবে। কাজে যোগ না দিলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। কাজে যোগ না দিলে হস্টেল খালি করে দেওয়া হবে প্রয়োজনে। যত নেতা আছে ধরে নিয়ে আসুন। আমি পুলিশকে বলব যারা এখানে আন্দোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিতে।‘ মমতা আরও বলেন, পরিসেবা না দিলে ডাক্তার হওয়া যায় না। তাঁর যুক্তি, অনেক পুলিশ মারা যান, তাই বলে পুলিশ স্ট্রাইক করতে পারে না। রোগী পরিষেবা বন্ধ হলে সরকার সাহায্য করবে না।

নবান্ন যাওয়ার পথে এসএসকেএমে পৌঁছেই মমতা সরাসরি চলে যান এইমার্জেন্সি বিভাগে। রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। বেশ কিছু রোগী দূরদূরান্ত থেকে এসে চিকিৎসা না পেয়ে বসেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আজ আন্দোলনের তৃতীয় দিন সকালে এসএসকেএমের আউটডোরের টিকিট দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু কিছু পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী আসতেই অভিযোগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবার। জানান, তিন দিন ধরে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন তাঁরা। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বেরোনোর সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন জুনিয়র চিকিত্সকরাও। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠে। বিচারের দাবি করেন তাঁরা। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলিতে চক্রান্ত চলছে। বহিরাগতরা হাসপাতালে ঢুকে পড়ে হাঙ্গামা বাধাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পর পালটা ক্ষোভে ফেটে পড়েন চিকিৎসকেরা। প্রশ্ন তোলেন, যখন একের পর এক চিকিৎসক নিগৃহীত হয়েছেন, তখন এই কড়া মুখ্যমন্ত্রী কোথায় ছিলেন! তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, কাজে ফেরার প্রশ্নই নেই!

ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফে তীব্র নিন্দা করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের। ফোরামের তরফে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএমে গিয়ে শুধু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গেই দেখা করে কথা বলেছেন। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি তিনি। সকলের কথাই সহানুভূতির সঙ্গে শোনার কথা ছিল তাঁর।