মমতার উপহারে তৃণমূলের অনন্ত-যোগ আগেই

508

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : মহারাজকে নিজেদের পক্ষে টানতে নির্বাচনের আগে থেকেই সলতে পাকানো শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেজন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তাঁর জন্য বিশেষ উপহার হিসাবে পায়জামা-পাঞ্জাবি পাঠিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, কলকাতার এক সাংবাদিকের মাধ্যমে অসমে অনন্ত মহারাজের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনে তার ফল না পেলেও হাল ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী। বরং তাঁর নির্দেশেই দলের উত্তরবঙ্গের দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন মহারাজের সঙ্গে। লক্ষ্যপূরণে সঠিকপথেই যে তৃণমূল হাঁটছে তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে শনিবার চকচকায় অনন্ত মহারাজের প্রাসাদে গিয়ে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দীর্ঘ বৈঠকে। বিষয়টিকে প্রকাশ্যে আমল দিতে না চাইলেও মহারাজের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের এই ঘনিষ্ঠতা যে বিজেপির নেতাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা তাঁদের কথাতেই পরিষ্কার। বিজেপির নেতা তথা কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক দাবি করেছেন, রবিবার তিনিও চকচকায় মহারাজের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজের বাড়িতে যাওয়ার কথা রবিবার অস্বীকার করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে সোমবার উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রথম পাতায় মহারাজের বাড়ির সামনে তাঁর গাড়ির ছবি সহ খবর ফলাও করে বের হওয়ার পর রবিবাবু স্বীকার করে নিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ মহারাজের বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন। এদিন রবিবাবু বলেন, অনন্ত মহারাজ খুবই ভালো মানুষ। তাঁর অসুস্থতার কথা শুনে শনিবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। এর বেশি কিছু নয়। কোনও রাজনৈতিক আলোচনা মহারাজের সঙ্গে হয়নি।

- Advertisement -

মহারাজের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি তৃণমূল হালকা করে দেখাতে চাইলেও প্রশ্ন উঠেছে, গ্রেটারের শীর্ষ নেতার সঙ্গে তৃণমূলের যদি তেমন কোনও সম্পর্ক গড়ে নাই উঠবে তাহলে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা কেন বারেবারে তার বাড়িতে যাচ্ছেন? শরীর খারাপের কথা শুনে তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি কেন চুপিচুপি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন? মহারাজের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি কোচবিহারের চকচকার বড়গিলায় তাঁর প্রাসাদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন? তাঁকে গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা উলটে রাজ্য সরকার তাঁর নিরাপত্তার জন্য কেন তিনজন রক্ষী দিয়েছেন? দীর্ঘদিন ফ্রিজ থাকার পরেও দিনহাটার একটি ব্যাংকে তাঁর দুটি অ্যাকাউন্ট কীভাবে পুনরায় সচল হল? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই কেন তাঁকে উপহার পাঠাচ্ছেন?

প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপির কয়েকজন নেতার ভূমিকা নিয়ে। গতবার মহারাজার যাওয়া আটকাতে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও অসমের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এতে তাঁরা সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু এবার এত কিছু হওয়ার পরেও বিজেপির নেতারা কী করছেন? বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন, অনন্ত মহারাজ রাজবংশীদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ফলে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ দেখা করতে যেতেই পারেন। সবাই একই জায়গার লোক। এতে অসুবিধার কিছু নেই।

বিজেপির জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, মহারাজ উত্তরবঙ্গের একটা বড় জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ফলে তাঁর সঙ্গে যে কেউ দেখা করতে যেতেই পারেন। আমরাও যেতে পারি। কবে যাবেন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে অবশ্য তিনি বলেন, দলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি জেলাস্তরের নয়। ওঁর সঙ্গে বরাবরই কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে কথা হয়েছে। ফলে আমার ধারণা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। তবে তাঁরা কী ভাবছেন তা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, মহারাজ সরাসরি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও বরাবরই তিনি আমাদের সমর্থন করে এসেছেন। এতে অতীতের নির্বাচনগুলিতে আমরা উপকৃত হয়েছি। কোনও কারণে তিনি বিমুখ হলে ক্ষতি তো হবেই।