লোকসভায় গোহারা হেরেছি, এবার পুষিয়ে দেবেন: মমতা

170

শিলিগুড়ি: লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে একটিও আসন না পাওয়ার দুঃখ এখনও তিনি ভুলতে পারেননি। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা ভোটে যথেষ্টই আশাবাদী তিনি। সোমবার শিলিগুড়ির বাঘা যতীন পার্কে উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘লোকসভা ভোটে গোহারা হেরেছি, তবুও লজ্জা নেই। আমি আবার এসেছি। আশা করছি, এবার পুষিয়ে দেবেন।’ এভাবেই এদিন উপস্থিত মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দিদিও থাকবে, আপনারাও থাকবেন। স্বাস্থ্য সাথীও থাকবে, খাদ্য সাথীও থাকবে। বিনা পয়সায় খাদ্য খান, বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন, রাজ্যটাকে ঠিক রাখুন।’

এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ৯ জনকে বঙ্গরত্ন সম্মান প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছেন কালিম্পংয়ের নাট্যকার ও সমাজসেবী সি কে শ্রেষ্ঠা, জলপাইগুড়ি থেকে পরিবেশপ্রেমী রাজা রাউত, আলিপুরদুয়ারের লোকশিল্প গবেষক ও লেখক প্রমোদ নাথ, কোচবিহার থেকে সাংবাদিক মইনুদ্দিন চিস্তি, উত্তর দিনাজপুরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পার্থ সেন, আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে তাপস কুমার চক্রবর্তী, মালদার নাট্যাকার ও অভিনেতা পরিমল ত্রিবেদী, দার্জিলিং জেলা থেকে চিকিৎসক শেখর চক্রবর্তী ও পাহাড় থেকে শিশু ও নারী পাচার রুখতে উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য সমাজকর্মী রঙ্গু সৌরিয়া।

- Advertisement -

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গে ঢেলে উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ভোরের আলো থেকে পাহাড়ের লামাহাটা পর্যটন কেন্দ্র, আফ্রিকান ধাঁচের সাফারি পার্ক থেকে বিমানবন্দর, জয়ী সেতু থেকে সার্কিট বেঞ্চ-সমস্ত করে দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার জেলার সিতাই ব্লকের সিঙ্গিমারি নদীর উপর নবনির্মিত দেবী কামতেশ্বরী সেতুর উদ্বোধনের পাশাপাশি নিশিগঞ্জ দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন পূর্ত, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ছিলেন বিনয় তামাং, অনীত থাপা সহ আরও অনেকে।