সোমেন মিত্রের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর, স্মৃতিচারণ রাহুল-অধীরের

201

কলকাতা: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের প্রয়াণে শোকাহত রাজনৈতিক মহল। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।

মুখ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় জানান, প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ সোমেন মিত্রের প্রয়াণে আমি শোকপ্রকাশ করছি। তাঁর পরিবার-পরিজন, অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’

- Advertisement -

সোমেন মিত্রের প্রয়াণে দুঃখপ্রকাশ করেছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি টুইটে লেখেন, ‘এই কঠিন সময়ে সোমেন মিত্রের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও সহযোগিতা রইল। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি আমাদের স্মৃতিতে থাকবেন।’

প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী শোকপ্রকাশ করে লেখেন, ‘সোমেন মিত্র আর নেই এটা ভাবতে পারছিনা, বাংলার একটা অধ্যায় সমাপ্ত হল। সংগ্রাম করে, প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমার রাজনৈতিক অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি করার মূল কারিগর সোমেনদা কে হারিয়ে আমি দুঃখে কাতর ও বেদনাহত হলাম।’

প্রসঙ্গত, বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে জীবনাবসান হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বেশকিছু দিন থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ডায়ালিসিস চলছিল সোমেনবাবুর। বুধবার নার্সিং হোমে তিনি চলাফেরাও করেন। পাশাপাশি অনেকের সঙ্গে কথাও বলেন। তবে গভীর রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। প্রদেশ কংগ্রেস টুইটে এই খবর জানায়।

‘ছোড়দা’ নামে বেশি পরিচিত সোমেনবাবু শিয়ালদা কেন্দ্র (বর্তমানে লুপ্ত) থেকে কয়েকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০০৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচত হন। পরে অবশ্য কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।২০১৮-তে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও হন তিনি।

এদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তাঁর শবদেহ বেলভিউ হাসপাতাল থেকে ৩ নম্বর লোয়ার রডোন স্ট্রিটের নিজ বাসভবন নিয়ে যাওয়ার কথা। এরপর ১০টা ৩০-১২টা ৩০ পর্যন্ত বিধান ভবন এবং ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট বিধানসভা এবং সেখান থেকে আদি বাড়ি ৪৫ নম্বর আমহাস্ট স্ট্রিটে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে নিমতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর প্রয়াণে বাংলা তথা দেশের রাজনৈতিক জগতে গভীর শূন্যতা তৈরি হল।