শহিদ দিবসে ভার্চুয়াল সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

301

কলকাতা: শহিদ দিবসে কালীঘাটে ভার্চুয়াল সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, ‘হৃদয়ে ব্যাথা নিয়ে এই সভা করছি। এবার ধর্মতলায় সভায় করতে না পেরে ব্যথিত। আগামী বছর সবচেয়ে বড় সভা হবে। তার প্রস্তুতি এখনই চলছে।’

পাশাপাশি চিন সামীন্তে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ভয়ে অনেকে কথা বলতে পারছেন না। সিপিএমের আমলে বহু কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে অপপ্রচার চলছে। তৃণমূল থাকলে সারাজীবন বিনামূল্যে র‍্যাশন পাবেন। বাংলার প্রতি বঞ্চনা করছে কেন্দ্র। এই বঞ্চনার বদলা নেবে বাংলা। তৃণমূলকে এতো দুর্বল ভাববেন না। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে বলে গায়ের জোড়! কখনও বলছে হিংসা করো, কখনও বলছে এনকাউন্টার করো। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরির চেষ্টা। আমরা সবাই এক। আমরা এনআরসি-র লড়াই ভুলিনি। দিল্লিতে কীভাবে খুন করা হল ভুলিনি।’

- Advertisement -

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলেন তিনি। পরিযায়ীদের জন্য অর্থ ব্যয় করেছি। পড়ুয়াদের ফিরিয়ে এনেছি। ৪৬ লক্ষ মানুষকে কৃষক বন্ধু দিয়েছি। কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছি। আদিবাসীদের জমির অধিকার সুরক্ষিত।’

করোনা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘করোনা বাড়ছে। ভয় পাবেন না। টেস্ট বাড়লে আক্রান্ত বাড়বে। করোনা চিকিত্সায় ১৮ হাজার বেড। ১৫ অগাস্টের মধ্যে টেস্ট বাড়ানো হবে। দৈনিক ২৫ হাজার টেস্টের টার্গেট। রাজ্যে মৃত্যুহার আরও কমাব।’

এদিন পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, কালীঘাটের বাড়ির দপ্তর থেকে ২১ জুলাইয়ের তৃণমূলের সভা শুরু হয়। তৃণমূলের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কন্টেনমেন্ট এলাকা ছাড়া রাজ্যের সমস্ত বুথে এদিন দলীয় পতাকা উত্তোলন করে শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা শুরু করেন মমতা। করোনা পরিস্থিতির জন্য ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের জমায়েত না হলেও তৃণমূলের সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এই বক্তৃতা বুথে বুথে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ ২১ জুলাইয়ের সভা।