জোড়া স্টেন্ট বসল মহারাজের, দেখে এলেন মুখ্যমন্ত্রী

115

কলকাতা: অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হল। প্রত্যাশিতভাবেই আরও দুটি স্টেন্ট বসল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে অস্ত্রোপচার হয় প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের হৃদযন্ত্রে।

বিকেলে অস্ত্রোপচারের আগে সকালেই বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবী শেঠি। মুম্বই থেকে সকালে প্রায় একই সময়ে কলকাতায় হাজির হয়েছিলেন ডাঃ অশ্বিন মেহেতাও। কলকাতায় সৌরভের চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রতিনিধি ডাঃ সরোজ মণ্ডল, ডাঃ সপ্তর্ষি বসু ও ডাঃ আফতাব খানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরই বিসিসিআই সভাপতির হৃদযন্ত্রে আরও দুটি স্টেন্ট বসানোর চড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। মহারাজের হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর প্রক্রিয়া শেষের পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ডাঃ দেবী শেঠি জানান, সফলভাবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সৌরভ এখন ভালো আছেন। কোনও সমস্যা হয়নি অস্ত্রোপচারে।

- Advertisement -

শরীরে অস্বস্তি, বুকে হালকা ব্যথা নিয়ে বুধবার দুপুরে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ। তারপর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে দেশজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফের স্টেন্ট বসানোর দিকেই চিকিৎসকরা সম্মতি দিয়েছিলেন। শুধু অপেক্ষা ছিল ডাঃ শেঠির সম্মতির। এদিন সকালের দিকে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে নামার পর সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে যান ডাঃ শেঠি। তাঁর সঙ্গে আলোচনার পরই সৌরভের হৃদযন্ত্রে জোড়া স্টেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলের দিকে অস্ত্রোপচারও হয়ে যায়।

প্রায় সারা দিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৌরভের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী দেখতে হাজির হন হাসপাতালে। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের সঙ্গে দেখা করার পর বাইরে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সৌরভকে দেখে এলাম। ও ভালো আছে। সুস্থ আছে। সৌরভের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

শিলিগুড়ির পুর প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্যও বৃহস্পতিবার সকালের দিকে হাজির হয়েছিলেন অ্যাপোলো হাসপাতালে। সন্ধ্যায় সৌরভের জোড়া স্টেন্ট বসার পর তাঁর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ সংবাদের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সৌরভ বরাবরের ফাইটার, কামব্যাকের সেরা উদাহরণ। আমি নিশ্চিত, এবারও অতীতের মতোই স্বাভাবিক জীবনে কামব্যাক করবে ও। সৌরভের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।‘

হৃদযন্ত্রে দুই দফায় মোট তিনটি স্টেন্ট বসে যাওয়ার পর মহারাজের শরীরের দিকে নজর রাখছে ভারতীয় ক্রিকেটমহলও। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের শরীর আগামীদিনে বোর্ডের দৈনন্দিন কাজের ধকল কতটা নিতে পারবে, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।