কলকাতা, ১৩ জুন : জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে নিতে যেভাবে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুমকি দিয়েছেন, তা স্বৈরাচারী বলে মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাহা ফেল। যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তার দায় শুধুই মুখ্যমন্ত্রীর। সেই ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি যে রকম হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন তা দেখে মনে হচ্ছে বাংলায় হিটলারি শাসন চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নবান্ন যাওয়ার পথে হঠাৎই এসএসকেএম হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালে পৌঁছতেই জুনিয়ার ডাক্তাররা তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান তুলতে থাকেন। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে মমতা বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিত্সকরা কাজে যোগ না দিলে ব্যবস্থা নেবে সরকার। যারা কাজে যোগ দেবে না, তাদের হস্টেল ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বহিরাগতরা গোলমাল পাকাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর এরপরই ফের একবার নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। দাবি না মেটা পর্যন্ত কোনোভাবেই আন্দোলন বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মমতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম।

মুকুলবাবু বলেন, দিনের পর দিন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। কোনও ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী এ দিন হাসপাতালে পৌঁছনোর পর অনেকে আশা করেছিলেন তিনি জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগের কথা শুনবেন। তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। তাতে আশ্বস্ত হয়ে জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে যোগ দেবেন। কিন্তু তা না করে মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে হুঁশিয়ারি দিলেন, তাকে স্বৈরাচার ছাড়া আর কিছু বলা যায় কি?’