নির্বাচনের আগে দল সামলাতে নামছেন মমতা

কলকাতা : একদিকে বহিরাগতদের হানা, অন্যদিকে ঘরশত্রুর জ্বালাতন, সবমিলিয়ে অতিষ্ঠ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের আগে ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিচ্ছেন। একুশের মহারণকে সামনে রেখে ৪ ডিসেম্বর রাজ্যের সব জেলার দলীয় সভাপতি ও শীর্ষ নেতত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মমতা। ৬ ডিসেম্বর তাঁর নেতত্বে কলকাতায় মহামিছিল করার পরিকল্পনা হয়েছে।

৭ ডিসেম্বর থেকেই টানা জেলা সফর শুরু করবেন তিনি। প্রথমেই যাবেন শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত মেদিনীপুরে। শুভেন্দু সবসময় অবিভক্ত মেদিনীপুরের কথা বলেন। মমতা তাঁর প্রথম সভাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর শহর মেদিনীপুরের কলেজ মাঠে করবেন। শুভেন্দু যেভাবে দাদার অনুগামী নামে অরাজনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে বাংলাজুড়ে নিজের জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন, তারই পালটা হিসেবে ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর নতুন মঞ্চ গড়ে দিয়েছেন দিদির সঙ্গে। তার নিজস্ব লোগো তৈরি করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন স্লোগান, আওয়াজ উঠেছে বঙ্গে, আমরা দিদির সঙ্গে। সবরকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ও টি-শার্টে এই লোগো থাকবে।

- Advertisement -

শুভেন্দুর মোকাবিলার পরই গুরুত্বের তালিকায় তিনি রেখেছেন মতুয়া ভোটকে। ৯ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় জনসভা করবেন মমতা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ আসনটি তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির দখলে যায়। বনগাঁ ও বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের দুই বিধায়কও গেরুয়া শিবিরের লোক। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রই মতুয়া ভোটের কেন্দ্র। একসময় মমতা নিজে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে বারবার ঠাকুর বাড়িতে গিয়ে বড় মা-র সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন। বড় মা-র আশীর্বাদে মমতা মতুয়া ভোটের সিংহভাগ তাঁর দিকে আনতে পেরেছিলেন। বড় মা-র সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মমতা বারবারই মতুয়া সম্প্রদায়কে স্মরণ করান। এবার সেই মতুয়া ভোট ব্যাংককে ফেরানোর চেষ্টা করছেন মমতা। ইতিমধ্যেই মতুয়াদের উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করে তার জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়বরাদ্দ করেছেন তিনি। এবার ৯ ডিসেম্বর বনগাঁর গোপালনগরের সভা থেকে তিনি নতুন কী বার্তা দেন, তা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়।

জেলা সফরের আগে সেখানকার নেতাদের তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিতে চান। সেইসঙ্গে দলের নীচুতলার কর্মীরা কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সে ব্যাপারেও খোঁজখবর রাখতে চান তিনি। ইতিমধ্যেই বাঁকুড়ার সভায় কর্মীদেরই দায়িত্ব দিয়েছেন নেতাদের ওপর নজরদারি করার জন্য। রাতের অন্ধকারে কে কোথায় যাচ্ছেন বা ফোন করছেন সে সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার জন্য কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে জেলায় জেলায় কিছু নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বাকি নেতা-কর্মীদের বার্তা দিতে চান তিনি।