কৃষি আইন নিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করছেন মমতা, অভিযোগ কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র

473

বর্ধমান: দেশের চাষিদের কল্যাণের জন্যই কেন্দ্রের সরকার নতুন কৃষি আইন এনেছে। আর সেই কৃষি আইন নিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ ওনার চাষিদের কল্যাণ নিয়ে কোন চিন্তা নেই। কৃষি আইন নিয়ে মঙ্গলবার এভাবেই তৃণমৃল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এদিন তিনি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বড়বৈনানে দলীয় সভায় যোগ দিয়েছিলেন। সভায় নিজের বক্তব্যে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় আরও বলেন, কৃষি আইন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের ভুল বোঝাচ্ছেন। চাষিদের জমি কেড়ে নেওয়া হবে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেকথা বলছেন তা ঠিক নয়। কৃষকদের ফসল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই বিল পাস করা হয়েছে। তাহলে কৃষকের জমি চলে যাবার প্রশ্ন কীভাবে আসছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় আরও বলেন, কেন্দ্রের মোদি সরকার দেশের প্রত্যেক কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ হাজার টাকা করে দিতে চাইছে। এখনও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চাষিদের মিলিয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের চাষিদের জন্য ৮-৯ হাজার কোটি টাকা রাখা রয়েছে। কেন্দ্র সেই টাকা চাষিদের দিতে চাইলেও মমতা দিদি তা চাইছেন না। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, দিদি চাইছেন ওই টাকা যাতে তার খাতায় জমা হয়। যাতে করে কাটমানি খাওয়া যায়। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলেন, মমতা দিদি অনেক কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজ চালিয়েছেন। এইসব ষড়যন্ত্র করে আর কিছু লাভ হবে না। এবার বাংলায় বিজেপি সরকার আসছে সব বন্ধ হয়ে যাবে।

- Advertisement -

জনসভার মঞ্চ থেকে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এদিন রাজ্যের প্রশাসনের আধিকারিক ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করেও তীর্যক কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী বিধানসভা ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি হবে। এরপরেই পুলিশের উদ্দেশ্যে বিজয়বর্গীয় বলেন, রাজ্যের যেসব পুলিশ কর্মী গলদ ধান্দার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের তালিকা আমরা তৈরি করে রেখেছি। বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের চাকরি করা মুসকিল করে দেব। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে জেলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। গলদ ধান্দায় যুক্ত সবাইকে জেলে ভরা হবে। প্রসাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় হুমকির সুরে বলেন, যেসব আধিকারিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাড়ি ধরে ভারতের সংবিধান মানছেন না, সেই আধিকারিকদেরকেও জেলে পৌঁছে দেব।

এদিন রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যেোপাধ্যায়ের নাম মুখে না এনে তাদের বড় পাপ্পু ও ছোট পাপ্পু বলে কটাক্ষ করেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে গরু পাচারের পাশাপাশি ছোট পাপ্পুর লোক পুলিশকে নিয়ে কয়লা খাদান থেকে কয়লা চুরি করেছে। এই সব লোকেদের ক্ষমতায় থাকার কোনও আধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা। বড়বৈনানের জনসভায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা মুকুল রায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সভায় যোগ দিয়েছিলেন ভারতি ঘোষ, সৌমিত্র খাঁ, শঙ্কদেব পাণ্ডা ও পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী।