করোনার ওষুধ ও সরঞ্জাম করমুক্ত হোক, প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি মমতার

95

কলকাতা: করোনা চিকিৎসার জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহায্য চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এরাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা সহ পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়নে তাঁর সহযোগিতা চেয়েছেন মমতা। বিশেষ করে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের জীবনদায়ী ওষুধ ও যন্ত্রপাতির ওপর থেকে জিএসটি ও শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই মমতা করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজে নামেন। প্রথম থেকেই তিনি এ ব্যাপারে রাজ্যের সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সাহায্য চান। তাঁর ডাকে যে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন তাও স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে মমতা লিখেছেন, বহু সংস্থা, ব্যক্তি ও দাতব্য সংগঠন অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, সিলিন্ডার, ক্রায়োজেনিক স্টোরেজ ট্যাংক, ট্যাংকার, ট্যাংক কন্টেনার ও করোনা চিকিৎসার ওষুধপত্র দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে বিরাট ফাঁক রয়েছে, তা পূরণ করতে এই সংগঠনগুলির দান রাজ্য সরকারকে অনেকখানি সাহায্য করবে। এই সহায়তাদানকারী ব্যক্তি ও এজেন্সিগুলির অনেকেই রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন, করোনা সম্পর্কিত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সব ধরনের কর ও শুল্ক মকুব করতে। মমতা বলেন, ‘কর ও শুল্ক মকুবের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের আওতার মধ্যে পড়ে। তাই আমি এই করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় ওই জীবনদায়ী ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনার ব্যাপারে কর ও শুল্ক মকুবের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

- Advertisement -

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রধানমন্ত্রীকে করোনা টিকা, অক্সিজেন ও জীবনদায়ী ওষুধের ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য একটি চিঠিরও উত্তর দেননি। তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিগুলির জবাব দিতে গিয়ে রাজ্য সরকারকে পালটা চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা আশানুরূপ নয়। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ালে এরাজ্যে সংক্রামিতের সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাবে। মমতার মূল দাবি দেশের প্রত্যেকের জন্য বিনামূল্যে টিকাকরণ সম্পর্কে সরাসরি কোনও জবাব দেননি হর্ষ বর্ধন।