চা বাগানে ন্যূনতম মজুরি ইস্যুর নিষ্পত্তি চাইছেন মমতা

161

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গত লোকসভা ভোটে রাজ্যের চা বলয়ে চা শ্রমিকরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে বড় ধরনের ধস নেমেছিল। তাই এবার বিধানসভা ভোটের আগেই চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। তার জন্য খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এবার মালিক পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে চা শ্রমিকরা এখন নূন্যতম মজুরি পান না। এখন শ্রমিকরা দৈনিক ১৭৬ টাকা মজুরি পান। ২৯ সদস্যের একটি অ্যাডভাইজারি কমিটি ন্যূনতম মজুরি ঠিক করে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করবে। কিন্তু, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। গত মঙ্গলবার ফের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্যা নিয়ে খোঁজখবর করেন। শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটককে এই ব্যাপারে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে আগামী সপ্তাহে ফের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকতে চলেছেন শ্রমমন্ত্রী। কারণ হিসেবে সরকারি এক কর্তা বলেন, গত লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পেছনে চা শ্রমিকদের ভোট ব্যাংকে ধস অন্যতম প্রধান কারণ। এবারও চা বলয় এলাকায় বিজেপির শ্রমিক সংগঠন যথেষ্ট শক্তি বৃদ্ধি করে মাঠে নেমেছে। এমনকি, নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুণ্ডা দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সেখানেও বিজেপি কিছুটা শক্তিবৃদ্ধি করেছে। এই অবস্থায় চা বলয়ে নিজেদের ভোট ব্যাংক ফিরে পেতে শ্রমিকদের ভোট প্রয়োজন। কিন্তু, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তৃণমূল সরকারকে চাপে পড়তে হচ্ছে। ভোটের আগে এই সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে প্রচারে তৃণমূল এই বিষয়টি ইস্যু করতে পারবে। কোনও কারণে ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে শ্রমিক সংগঠনগুলিকে সন্তুষ্ট করতে অন্তর্বতীকালীন মজুরি বৃদ্ধি করার দিকে এগোবে সরকার। কিন্তু, এই মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিক সংগঠনগুলি আদৌ মানবে কি না, তা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেই সংশয় আছে।

শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আমরা ঘনঘন বৈঠক করছি। কিন্তু, শ্রমিকদের মজুরি দেবে মালিক পক্ষ আর দরকষাকষি করবে শ্রমিক সংগঠনগুলি। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ছাড়া আমাদের আর কোনও ভূমিকা নেই। আগামী সপ্তাহে ফের বৈঠকে বসব। শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আমরা মালিক পক্ষকে প্রস্তাব দেব। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চাইছি। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের আই প্যাক টিম চা বলয়ে ঘুরে শ্রমিকদের মন বোঝার চেষ্টা করেছে। মূলত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার ফয়সালা করতে না পারার জন্যই ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বলে ওই টিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিপোর্ট দিয়েছে। তারপরই চা শ্রমিকদের মন জয় করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। চা মহল্লায় শ্রমিকরা যাতে সমস্ত সরকারি সুযোগসুবিধা পান, সেদিকে নজর দিতে জেলা তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু, আগামী বিধানসভা ভোটেও যে ন্যূনতম মজুরি ইস্যুটি বিজেপি সামনে এনে প্রচার করবে, তা দলনেত্রী জানেন। সেই কারণেই এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে মলয়বাবুকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিকের টিমের সঙ্গে কথা বলে চলতি মাসেই চা বলয়ে জন্য আরও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করতে পারেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্য তৃণমূলের এক নেতা বলেন, উত্তরবঙ্গে দলের অবস্থা যে আদৌ ভালো নয় তা দলনেত্রী বুঝতে পারছেন। সেই কারণে ভোটের আগে চা শ্রমিকদের মন জয় করতে দলনেত্রী মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পিকে উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে অভিষেক ও পিকে বৈঠক করবেন। তাঁদের সঙ্গে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গ উঠবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন তাঁরা।

- Advertisement -