হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মৌন মিছিল

173
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বিকেলে তাঁর চিকিৎসায় নিযুক্ত মেডিকেল টিম একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেন। তবে তার আগে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীকে সাড়ে ১২ নম্বর কেবিনেই হুইল চেয়ারে বসিয়ে ঘণ্টা দুয়েক প্র্যাকটিস করানে হয়। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু হাওয়াই চপ্পল পড়েন সেহেতু সেখানকার চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ ধরনের হাওয়াই চপ্পল তাকে এনে দেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিন এসএসকেএম হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর পায়ের প্লাস্টার এদিন কেটে ফেলা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, পায়ে যে রক্ত জমাট বেঁধে ছিল তা অনেকটাই কমেছে। সেইসঙ্গে তাঁর পায়ের আরও যেসব সমস্যাগুলি দেখা গিয়েছিল তাও অনেকটা কমের দিকেই রয়েছে। সবকিছু দেখে তাঁর পায়ে আবার নতুন করে প্লাস্টার করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তরফে যে সাত জন চিকিৎসককে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড তৈরি করা হয়েছিল তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে আরও ৪৮ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার নির্দেশ দিলেও মুখ্যমন্ত্রী নিজের বাড়ি যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েন। তাই এদিন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হল। তবে তাঁকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাড়িতে থাকতেও কি কি নিয়ম মেনে চলতে হবে।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রীর তার বাড়িতে ফেরার সময় হাসপাতালের হুইল চেয়ারে করে তাকে বের করে আনা হয়। এরপর ধরাধরি করে তাকে গাড়ির সামনের সিটে বসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিশাল কনভয়ের মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িটিকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছোয়। সেখানেও তাঁকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, নন্দীগ্রাম-কাণ্ডে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আগের বক্তব্য থেকে সরে এলেও, সরে আসতে রাজি নন তার মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী। আর সেই কারণেই নন্দীগ্রামে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতার উপর হামলার অভিযোগ তুলে, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার রাজ্যজুড়ে মৌন মিছিলে ডাক দেন দলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থবাবুর সেই মৌন মিছিল এর ডাক দেওয়ার পরপরই কলকাতা সহ, কলকাতার আশপাশে অঞ্চলে এদিন মৌনমিছিলে শামাল হন দলের নেতা-কর্মীরা।