উত্তরবঙ্গে এপ্রিলে ১৫ দিন সভা করবেন মমতা

86

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : উত্তরের ৫৪ আসনের মধ্যে অন্তত ৩০টি দখল তৃণমূলের মূল লক্ষ্য। আর তাই এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আট জেলায় অন্তত ১৫ দিন সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা যাওয়ার আগে দলের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের সেখানে প্রচারে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে অভিষেকও থাকবেন।  বুধবার দলের নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশের সন্ধ্যায় মমতা দলের নির্বাচনি কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মমতা আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ৫ এপ্রিল নাগাদ তিনি কোচবিহারে যাবেন। সেখান থেকে তিনি আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি জেলায় রোজ অন্তত তিনটি সভা করবেন। এরপর তিনি শিলিগুড়ি পৌঁছাবেন। সেখানে থেকেও তিনি শিলিগুড়ি মহকুমা ও উত্তর দিনাজপুরে জনসভা ও পদযাত্রা করবেন। তিনি মালদায় পৌঁছে একাধিক সভা করবেন। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের জন্য অন্তত ২৭টি সভা করতে পারেন বলে দলের শীর্ষ নেতাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত তিনটি বড় পদযাত্রায় তিনি অংশ নেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

- Advertisement -

প্রবীণ তৃণমূল নেতা মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, এপ্রিল মাসে উত্তরবঙ্গে ভোট হবে। তার আগে মমতা সেখানে যাবেন ও একাধিক কর্মসূচি নেবেন। ভাঙা পায়ে যেভাবে মমতা গোটা রাজ্যে ছুটে বেড়াচ্ছেন, তা দেখেই বিজেপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। দলনেত্রী শেষ পর্যায়ে উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে ঝড় তুলবেন। আমরা আশাবাদী, উত্তরবঙ্গে আমরা গত বিধানসভা ভোটের চেয়ে ভালো ফল করব।

প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টিম সমীক্ষা চালিয়ে মমতাকে রিপোর্ট দিয়েছে, আগের তুলনায় উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি অনেক অনুকূল। বিজেপির প্রার্থীতালিকা নিয়ে অসন্তোষও তৃণমূলের পক্ষে যেতে পারে। এখন উত্তরবঙ্গে শেষ লগ্নে আরও সময় দেওয়া ভালো। আইপ্যাকের ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরই তিনি ও অভিষেক উত্তরবঙ্গে অন্তত ১৫ দিন ঘাঁটি গেড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সময় দক্ষিণবঙ্গেও তৃণমূল নেত্রীর কয়েকটি সভা করার কথা। দক্ষিণবঙ্গে সভা শেষ করেই তিনি ফের উত্তরবঙ্গে পৌঁছে যাবেন। ওই সময় কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি আসন, হুগলি ও হাওড়াতেও ভোট। তাই দক্ষিণবঙ্গে যেমন তিনি সভা করবেন, তেমনই পরের দিনই উত্তরবঙ্গের কোনও জায়গায় সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মমতার পায়ের অবস্থা কিছুটা ভালো হলে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি পদযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে।