প্রলয়কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য, দলের হয়ে বিজেপি নেতাকে কাজ করার আবেদন মমতাকন্ঠের

158

পূর্ব মেদিনীপুর: আজ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ পর্ব। ভোটকে ঘিরে বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্ষিপ্ত ঝামেলার খবর উঠে এসেছে। কিন্তু এরই মাঝে নন্দীগ্রামে ভোটে সাহায্য চেয়ে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পালকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (যেমন দাবি করা হয়েছে) ফোনের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই তুমুল শোরগোল পরে যায় রাজ্য রাজনীতিতে।

রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনই অডিও ক্লিপটি প্রকাশ্যে আসায় তা নিয়ে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি। বিজেপির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দলের নেতাকে ফোন করে তৃণমূলের হয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। হার নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রীর এহেন কাজ বলে তোপ বিজেপি নেতাদের। প্রলয় পালেরও দাবি,  দলে যোগ দিতে প্রস্তাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাকে ফোন করেছিলেন।যদিও তিনি পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফোনে ভোটে বিজেপি নেতার সাহায্য চাইতে শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কণ্ঠস্বরওয়ালা মহিলাকে। তবে ওই অডিও ক্লিপের ওই মহিলা কন্ঠস্বর দাবি মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই কিনা তা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ।

- Advertisement -

 

প্রায় ৩ মিনিটের কথোপকথনে প্রলয়বাবুকে ওই মহিলাকন্ঠ বলেন,  ‘তুমি অনেক ইয়ং ছেলে। অনেক কাজ কর আমি জানি সব কিছু। তুমি একটু আমাদের হয়ে কাজ করে দাও না। সাহায্য করে দাও না। তুমি দেখবে কোনও অসুবিধে হবে না।’ এরপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন প্রলয়বাবু। জানিয়ে দেন, অধিকারী পরিবারের সঙ্গে ৪০ বছরের সম্পর্ক। বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবেন না তিনি। পালটা মহিলাকন্ঠ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ওখানে জমিদারি চালাতো। আমি অত খবর রাখতাম না। এখন সব খবর রাখছি।’ কথপোকথনের শেষে ফোন করার জন্য মহিলাকন্ঠকে ধন্যবাদ জানান প্রলয়বাবু। বলেন, ‘আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি এত বড় নেতৃত্ব হওয়া সত্ত্বেও আপনি আমার মতো সাধারণ কর্মীকে ফোন করেছেন, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু দিদি আপনাকে ক্ষমা করবেন।’

এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রলয়বাবু বলেন, ‘সিপিএমের চরম অত্যাচারের দিনেও অধিকারী পরিবার আমাদের পাশে ছিল। তাদের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। আমি বিজেপিতে যোগদান করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলিনি। আমরা বিজেপি করি দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত।’