মাহরেজের জোড়া গোলে সিটির বাজিমাৎ

ম্যাঞ্চেস্টার : ১৩ মরশুম।

২০০৮ সালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির মালিকানা কেনার পর থেকে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিল আবু ধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ। এরপর ১৩ মরশুমে ফুটবলার কেনার জন্য প্রায় ২০০ কোটি ইউরো খরচ হয়েছে। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিয়োগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠে সেমিফাইানালের দ্বিতীয় পর্বে প্যারিস সাঁ জাঁ-কে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দুপর্ব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের ক্লাবটি জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। ক্লাবের ১২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলবে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি।

- Advertisement -

সিটি বস পেপ গুয়ার্দিওলার এক দশকের অপেক্ষাও শেষ হল। ২০১০-১১ মরশুমে শেষবার বার্সেলোনার কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন। এরপর আর সেমিফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেননি তিনি। এদিন প্যারিসকে হারিয়ে বললেন, শেষ চার বছরে আমরা দুর্দান্ত কাজ করেছি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো কঠিন প্রতিযোগিতার ফাইনালে যাওয়াটা সহজ কাজ নয়। তবে শেষ ৪-৫ বছরের পারফরমেন্স দেখলে আমরা ফাইনাল খেলার যোগ্য। নজিরের দিনে পুরোনো সৈনিকদের ভুলে যাননি পেপ, এই উচ্চতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জো হার্ট, ভিনসেন্ট কোম্পানি ও ডেভিড সিলভার মতো ফুটবলারদের অবদান রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবের বাকি সকলকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ক্লাবের উন্নতির জন্য বহু মানুষ পর্দার আড়ালে কাজ করে চলেছেন। এই জয় তাঁদের সকলের। আমরা কত অর্থ ব্যয় করেছি, শুধুমাত্র তা দিয়ে এই সাফল্যকে বিচার করা ঠিক নয়।

পেশির চোটের জন্য এদিন খেলতে পারেননি প্যারিসের বড় শক্তি কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের ঠিক আগে হওয়া ফিটনেস টেস্টে ছিটকে যান তিনি। ফলে শুরু থেকেই বাড়তি সুবিধা পেয়ে যায় সিটি। ৬৯ মিনিটে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লাল কার্ড দেখার পর সিটির চাপ পুরোপুরি কেটে যায়। অবশ্য এমবাপে না থাকায় নায়ক হওয়ার সুয়োগ ছিল নেইমারের সামনে। কিন্তু প্যারিস থেকে রওনা দেওয়ার আগে জয়ের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করার কথা বললেও মাঠে নেমে নজর কাড়তে পারলেন না এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। হারের পর হতাশ প্যারিস কোচ মৌরিসিও পচেত্তিনো বললেন, এই ফল হতাশাজনক। কারণ দুই পর্ব মিলিয়ে আমরা ভালো খেলেছি। আমরা এমন একটা দলকে ছাপিয়ে গিয়েছি যারা সব বিভাগেই সেরা। ফিনিশিংয়ের বিষয়টিই দুপক্ষের মধ্যে তফাৎ গড়ে দিল।

প্যারিসের মালিক কাতারের, সিটি গ্রুপ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। ফলে এই ম্যাচে প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক লড়াইও ছিল। সেই লড়াইয়ে কাতারকে টেক্কা দিল আমিরশাহি।