ভালোবেসে এখনও স্কুলে আসেন মানিকবাবু

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : প্রায় দুই বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবু স্কুলকে ভালোবেসে এখনও বিনামূল্যেই নিজের ডিউটি করেন জেনকিন্স স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী মানিকচন্দ্র দাস। তাঁর হাতে ওয়ার্নিং বেল বাজার পরেই স্কুলের ক্লাস শুরু হয়। মানিকবাবুর এই নজিরবিহীন পরিসেবায় খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের আমলে ১৮৬১ সালে জেনকিন্স স্কুল তৈরি হয়। পড়াশোনার মানের জন্য রাজ্যজুড়ে এই স্কুলের খ্যাতি রয়েছে। এই রাজ্যের বাইরে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ছেলেমেয়েরাও এই স্কুলে পড়াশোনা করে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে মেধাতালিকায় প্রথম দশের মধ্যে এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নাম থাকাও রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর সংখ্যা খুব কম। ১৭টি চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র ছয়জন কর্মী। এই পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে অবসর নেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী মানিকচন্দ্র দাস। এতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও সমস্যায় পড়েছিল। কিন্তু ভালোবাসার টানে এখনও প্রতিদিন স্কুলে ডিউটি দেন মানিকবাবু।

- Advertisement -

এদিন মানিকবাবু বলেন, আমার বাড়ি স্কুল থেকে বেশ কিছুটা দূরে খাপাইডাঙ্গা এলাকায়। তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাদের সবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ১৯৯৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আমি এই স্কুলে কাজে যোগ দিয়েছিলাম। শুরু থেকেই স্কুলে বেল বাজিয়ে আসছি। তাই এখনও স্কুলের সময় হলে বাড়িতে থাকতে পারি না। ২২ বছরের অভ্যাসে এখনও রোজ সকালে স্কুলে আসার জন্য তৈরি হই। আমার স্ত্রীও এব্যাপারে আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। মানিকবাবু জানান, স্কুলের সমস্ত শিক্ষক, কর্মীরা তাঁকে খুব ভালোবাসেন। আর সেই ভালোবাসার টানেই তিনি রোজ স্কুলে আসেন।

স্কুলের প্রতি মানিকবাবুর এই নিঃস্বার্থ পরিসেবায খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম রিয়াজ আহমেদ বলেন, মানিকবাবু অবসরের আগেও কোনোদিন স্কুলে এক মিনিট দেরি করে আসেননি। এখনও তিনি নিযমিত সমস্ত কর্মীর আগে স্কুলে উপস্থিত হন। তাঁর এই পরিসেবায় আমরা খুশি।