চার ছেলের অত্যাচারে বাড়িছাড়া বৃদ্ধ

237

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি, ১৩ জুলাই : সম্পত্তির লোভে ৯০ বছরের বৃদ্ধকে বাড়িছাড়া করেছে চার ছেলে। নিজের বাড়ি থাকতেও এখন তাঁকে ঠাঁই খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে ঘুরে ঘুরে। গত একবছর ধরে এমনই পরিস্থিতি শিলিগুড়ি আশিঘর এলাকার শান্তিনগরের বাসিন্দা শশীভূষণ মণ্ডলের। ইতিমধ্যেই এনিয়ে আশিঘর ফাঁড়িতে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন শশীভূষণবাবু। তবে তারপরেও কোনো সুরাহা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।

দীর্ঘবছর ধরে শান্তিনগরে তিন পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন শশীভূষণবাবু। সেখানে তাঁর আটকাঠা জমি রয়েছে। জমির রেজিস্ট্রি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছেলেদের সঙ্গে বিবাদ রয়েছে তাঁর। সব জমি তাদের নামে লিখে না দেওযায় তিন ছেলে লক্ষ্মণ, সাধন ও খোকন তাঁকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে বলে জানান শশীভষণবাবু। ছেলেদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে তাঁর স্ত্রী তাঁকে জমি ছেলেদের নামে করে দিতে বললেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর কিছুদিনের জন্য জলপাইগুড়িতে বড়ো ছেলে তপন মণ্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিছুদিন পার হতেই সেখান থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়।

এখন শশীবাবু আশ্রয় নিয়েছেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, সন্তানের এরকম ব্যবহার আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। যে অত্যাচার তারা আমার উপর করেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই। পুলিশের কাছেও বিষযটি লিখিতভাবে জানিয়েছি। আটকাঠা জমি ছেলেদের নামে লিখে দিলে আমার কী হবে? কেউ তো আমার খোঁজও রাখে না। নিজের পেট চালানোর জন্য অর্ধেক জমি বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ছেলেরা সেটাও হতে দেয়নি। এই বয়সে এত অত্যাচার আমি আর সহ্য করতে পারছি না। অত্যাচারী ছেলেদের শাস্তি চাই। বৃদ্ধের অভিযোগ, ছেলেরা আমার ওপর এত অত্যাচার করার সাহস পাচ্ছে এলাকার শাসকদলের এক নেতার জন্য। তিনি পেছন থেকে ওদের মদত দিচ্ছেন।

দার্জিলিং জেলা লিগ্যাল এইড ফোরামের সম্পাদক অমিত সরকার বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই আমার কানে এসেছে। আমরা ওঁর সঙ্গে দেখা করে কী কী আইনি পরিসেবা তিনি পেতে পারেন তা দেখব। পাশাপাশি এ ব্যাপারে পুলিশের  সাহায্য নেব। এভাবে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার সন্তানরা করতে পারেন না। অন্যদিকে বিষয়টি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান সুধা সিংহ চট্টোপাধ্যায।