ভারতে আসার পরিকল্পনা বাতিল করছে না ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : ভারতে খেলতে আসার পরিকল্পনা বাতিল করছে না ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। শনিবার নিজেদের নিউজলেটার ম্যাঞ্চেস্টার ইভনিং নিউজে এই কথা জানিয়েছেন ক্লাবের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিচার্ড আর্নল্ড। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বিরুদ্ধে আর তাঁর ক্লাব খেলবে কি না সেসব নিয়ে অবশ্য কোনও কথাই বলেননি তিনি।

চলতি বছর জুন-জুলাইয়ে প্রাক মরশুম প্রস্তুতির অঙ্গ হিসাবে ভারতে খেলতে আসার পরিকল্পনা ছিল প্রিমিয়ার লিগের এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের। কিন্তু করোনার জন্য সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মতো বিশ্বের বেশ কিছু বড় ক্লাব বিভিন্ন দেশে গিয়ে নিজেদের প্রাক মরশুম প্রস্তুতি সারে। যা শুধু ফুটবল প্রচার বা প্রসার নয়, এই সফরকে তাদের বিপণনের কাজেও লাগানো হয়। গত গ্রীষ্মে অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার কিছু দেশে কাটানোর পরে এবার ভারতে আসার পরিকল্পনা ছিল। সেই সময়ে কথা হয়, ভারতে খেলতে এলে ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কলকাতায় একটা প্রীতি ম্যাচ খেলবে ওলে গুনার সোলসায়ারের দল। ইস্টবেঙ্গল মাঠ এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই মতো পরিদর্শনও করে যান ম্যান ইউ কর্তারা। শোনা গিয়েছিল, ২২ জুন হতে পারে ওই ঐতিহাসিক ম্যাচ।

- Advertisement -

কিন্তু করোনা মহামারি সবকিছুই ভেস্তে দেয়। এমনকি ইপিএলও শেষ করা যায়নি সময়মতো। ফলে আগামী মরশুমের শুরুতেই সম্ভবত আর এরকম কোনও সফর নাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাঁদের ভাবনা থেকে ভারতবর্ষ চলে গিয়েছে। আর্নল্ড বলেছেন, শুধুই মার্কেটিংয়ে জন্য নয়। সমর্থকরা আমাদের কাছে পরিবারের মতো। সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছেন আমাদের সমর্থকরা। যার অংশ ভারতবর্ষও। আমাদের পরিকল্পনা ছিল এই গ্রীষ্মে এখানে খেলব। যা বড় স্ক্রিনের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু করোনার জন্য সব বাতিল করে দিতে হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কোনওদিন আর হবে না। আমরা অদূর ভবিষ্যতেই ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।

এই করোনার সময়ে তাঁর ক্লাব গরিব মানুষের জন্য কী কী করেছে এসব নিয়ে কথা বলেছেন আর্নল্ড। বিশেষ করে দুঃস্থ ও গৃহহীনদের কাছে খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার কাজ, কর্মীদের ছাঁটাই না করে আর্থিক দিক দিয়ে সাহায্য করে যাওয়ার কাজ যে তাঁরা করে গিয়েছেন সেকথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, আমাদের কাছে এগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এরকম মারাত্মক অবস্থা মনে হয় বিশ্বে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার হচ্ছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও আমরা ক্লাবের জন্য টেকনলজি এবং উঠতি প্রতিভা তুলে আনার জন্য সবকিছু করে যাচ্ছি। যা ছিল স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতাদর্শ।