তিন মিলিমিটার উচ্চতার দুর্গামূর্তি বানিয়ে নজর কাড়ল মানস

406

রায়গঞ্জ: গত বছর ছয় মিলিমিটার মাপের দুর্গা বানিয়েছিলেন। এবার আরও ক্ষুদ্র দুর্গা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরের বাসিন্দা মানস রায়। প্রায় দুই মাসের চেষ্টায় মাটি, খড় ও আঠা দিয়ে তিন মিলিমিটারের দুর্গা এবং দুই মিলিমিটারের সরস্বতী, লক্ষ্মী, গনেশ ও কার্তিক বানিয়েছেন।

এত ক্ষুদ্র প্রতিমা কেউ আগে তৈরি করেছেন কিনা তাঁর জানা নেই। গিনেস বুকে এবার নাম তোলাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি এর আগে চাল দিয়ে তৈরি করেছিলেন নানান মূর্তি। কিন্ত এবার অতি ক্ষুদ্র দেবী দুর্গার মূর্তি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মানসবাবু।

- Advertisement -

মাস দুয়েকের প্রচেষ্টায় খর, মাটি ও আঠা দিয়ে তৈরি করে ফেললেন তিন মিলিমিটার সাইজের দুর্গা প্রতিমা। মানসবাবু পেশায় একজন চশমা বিক্রেতা। করণদিঘি এলাকায় চশমার দোকান রয়েছে। কাজের ফাঁকে খালি চোখে  ক্ষুদ্রতম বস্তু দিয়ে নানান ধরনের মূর্তি তৈরি করা। তিনি চাল দিয়ে তৈরি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল, নেতাজি সুভাষ, গৌতম বুদ্ধ, অটল বিহারি বাজপেয়ীর মত জনপ্রিয় নেতাদের মূর্তি।

গত বছর প্রায় এক এবছর ধরে নিজের চেষ্টায় প্রথম খর, মাটি ও আঠা  দিয়ে তৈরি করেছিলেন ছয় মিলিমিটার দেবী দুর্গার মুর্তি। লক্ষ্মী, সরস্বতী,গনেশ ও কার্তিকের সাইজ ছিল পাঁচ মিলি মিটার। এবারে তৈরি করেছেন তিন মিলিমিটার সাইজের দুর্গা।

মানসবাবু বলেন, ‘গত বছর ছয় মিলিমিটার মূর্তি তৈরি করেছিলাম গিনেস বুকে নাম তোলার জন্য। আমাকে যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলেছিলেন গিনেস বুকের কর্তারা। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনের জন্য সব বন্ধ থাকায় তথ্য পাঠাতে পারিনি। আনলকে সব অফিস খোলার পর আমাকে পাঠাতে বলেছে। তাই ভেবেছি এবারে তিন মিলিমিটার প্রতিমা তৈরি করে পাঠাবো। প্রথমে ভেবেছিলাম এবারে আর প্রতিমা তৈরি করব না। কিন্ত নিজের কাছে হেরে যাবো তা মানতে পারিনি। তাই গত দুইমাসের চেষ্টায় তিন মিলিমিটার সাইজের দুর্গা বানিয়ে ফেলেছি। আশাকরি গিনেস বুকে এবারে নাম উঠবে।

তিনি বলেন, আগামীতে ইচ্ছে আছে পাঁচ হাজার বর্গ মিটারের একটি পেইন্টিং করার। প্রকৃতির উপর এই পেইন্টিংটা হবে। বিশ্বের এটি হবে সবচেয়ে বড় পেইন্টিং। এজন্য খরচ হবে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। আশাকরি এই কাজ পারব আমি।

রায়গঞ্জবাসী হিসেবে, রায়গঞ্জের সুনাম অর্জন করাও তাঁর লক্ষ্য। পরিবার পরিজনেরা তাঁর কাজে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি এই কাজে সাহায্য করেন।

মানস বাবুর কন্যা তার বাবাকে এই কাজে সাহায্য করতে পেরে খুব খুশি। বাবা যাতে যোগ্য সন্মান পায় সেই আশায় বুক বেধেছেন দ্বাদশ শ্রেনিতে পাঠরত একমাত্র কন্যা সৌমি।