মানচিনির ছোঁয়ায় নতুন রূপে ইতালি

রোম : কাতানেচিও ডিফেন্সের জনপ্রিয় হয়েছিল তাদের হাত ধরেই। কিন্তু এই ইউরোয় ইতালি একেবারেই অফেন্সিভ।

অথচ তিন বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপের যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরো, আন্দ্রে পির্লোর উত্তরসূরিরা। সুইডেনের কাছে প্লে-অফে হেরে যায় চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপরই দায়িত্বে আসেন রবার্তো মানচিনি। প্রথমেই দলে বেশ কিছু পরিবর্তন তিনি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিরি আ-র ছোট ক্লাবগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেন। বিদেশের লিগে খেলা প্লেয়ারদের পারফরমেন্সে আলাদাভাবে নজর দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বড় দেশগুলির বদলে সম মানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার উপরে জোর দেন তিনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী শেষ ১১ ম্যাচে কোনও গোল খায়নি ইতালি। যদিও এই ১১ দেশের তালিকায় জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগালের মতো ইউরোপের বড় নাম নেই। কিন্তু ওই তালিকায় থাকা পোল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে ইউরোয় জিততে পারেনি স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।

- Advertisement -

১৯৩৫-৩৯ পর্যন্ত টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত ছিল বিশ্বজয়ী কোচ ভিত্তোরিও পোজোর ইতালি। রবিবার ওয়েলসে হারিয়ে সেই নজিরে ভাগ বসিয়েছে মানচিনি ব্রিগেডও। কিন্তু তিনি নিজে রেকর্ডের থেকেও ট্রফিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, পোজোর মতো কিংবদন্তীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়াটা দারুণ বিষয়। তবে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার থেকে ট্রফি জেতার গুরুত্ব বেশি। আগেই নকআউটে যাওয়ায় ওয়েলস ম্যাচে প্রথম একাদশের ৮ ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বললেন, সকলেই ভালো খেলেছে, যা ইতিবাচক। বলা হচ্ছে, দলে এতগুলি পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল না। তবে এই ম্যাচ নির্ণায়ক হলেও হয়তো আমি এই সিদ্ধান্ত নিতাম। সকলকে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। স্কোয়াডের ২৬ জনকেই খেলার সময় দিতে হবে।

অবশ্য ফুটবলাররা মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও খুশি। প্যারিস সাঁ জাঁর তারকা মিডফিল্ডার মার্কো ভেরাত্তির কথায়, দেশের হয়ে খেলার জন্য নির্বাচিত হয়েছি, এটাই বড় বিষয়। প্রয়োজন হলে সব ম্যাচে বেঞ্চে বসেই কাটাবো। দলে সকলে সমান, সকলেই শুরু থেকে খেলার যোগ্য। যে এই সুযোগ পাবে, সে মাঠে তাঁর সেরাটা দেবে। ওলয়েস ম্যাচের গোলদাতা মাতেও পেসিনার কথায়, সুযোগের জন্য কোচকে ধন্যবাদ। একটা পারফেক্ট ম্যাচ খেললাম। বড় মঞ্চে এমন পারফমেন্সই সবার স্বপ্ন। মানচিনির প্রশংসা শোনা গিয়েছে ইতালির দুই তারকা কোচ আন্তোনিও কন্তে এবং ক্লদিও র‌্যানিয়েরির মুখেও।