তিরন্দাজিতে দেশে তৃতীয় মালদার কৃষক পরিবারের মেয়ে মন্দিরা

গাজোল : সম্প্রতি ওডিশাতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল খেলো ইন্ডিয়া খেলো ২০২০ প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন বিভাগে দেশের নামকরা ক্রীড়াবিদরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। সিনিয়ার কম্পাউন্ড তিরন্দাজি প্রতিযোগিতার দলগত বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন মালদার মন্দিরা রাজবংশী। তাতে তাঁরা তৃতীয় হয়েছেন। গাজোল বিএসএ পরিচালিত তিরন্দাজি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নিতেন মন্দিরা। তাঁর এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি কোচ শ্রীমন্ত চৌধুরী এবং বিএসএ সম্পাদক সুভাষ রায়। খুশি গাজোলের ক্রীড়া মহলও। বর্তমানে পঞ্জাবের অমৃতসরে গুরু নানক দেব ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন মন্দিরা।

পুরাতন মালদা থানা এলাকার পিরগাই গ্রামের বাসিন্দা মন্দিরা রাজবংশী। বাবা রমেশ রাজবংশী কৃষক। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আলাদা ঝোঁক ছিল তাঁর। বেশ কষ্ট করেই গাজোল বিএসএ স্টেডিয়ামে তিরন্দাজি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। কোচ শ্রীমন্ত চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় প্রশিক্ষণ। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলে নিবিড় অনুশীলন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য অমৃতসর চলে গেলেও সময়, সুযোগ পেলে চলে আসতেন অনুশীলনে। অমৃতসরেও চলত অনুশীলন। এরই মধ্যে চলে আসে খেলো ইন্ডিয়া খেলো প্রতিযোগিতা। চারজন মিলে দলগত কম্পাউন্ড সিনিয়ার বিভাগে অংশগ্রহণ করে তাঁরা। মন্দিরার সঙ্গে ছিলেন মহারাষ্ট্রের মনীষা গগত, ওডিশার বর্ষা এবং পঞ্জাবের গুরশরণ কাউর। এই প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তাঁরা।

- Advertisement -

মন্দিরা জানিয়েছেন, কৃষক পরিবারের সন্তান তিনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি একটা ঝোঁক ছিলই। বিশেষ করে তিরন্দাজিতে সফল হওয়ার একটা বাসনা ছিল তাঁর। তাই গাজোল বিএসএ-র পক্ষে যখন তিরন্দাজি প্রশিক্ষণ শিবির শুরু করা হয়, তখন সেই শিবিরে যোগ দেন তিনি। কোচ শ্রীমন্ত চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় অনুশীলন। বাড়ি থেকে বেশ কষ্ট করেই অনুশীলনে যেতে হত। কোচের তিরধনুক নিয়ে অনুশীলন করতেন। বড় প্রতিযোগিতায় এবারেই প্রথম সাফল্য। ইচ্ছে আছে দেশের হয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার।

কোচ শ্রীমন্ত চৌধুরী বলেন, বিএসএর উদ্যোগে গাজোলে চলছে তিরন্দাজি প্রশিক্ষণ শিবির। এই শিবিরে যাঁরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাঁরা বেশিরভাগই খুব গরিব পরিবারের। তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। কোনওরকম সরকারি সাহায্য ছাড়াই এই প্রশিক্ষণ শিবির চলে। সরকারি সাহায্য পেলে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে এখান থেকে বেরিয়ে আসবেন আগামীদিনের তিরন্দাজরা, যাঁরা রাজ্য এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। শুধুমাত্র তাঁর এবং বিএসএর পক্ষে এত বড় প্রশিক্ষণ শিবির চালানো সত্যিই খুব অসুবিধার। সম্প্রতি গাজোল পঞ্চায়েত সমিতি থেকে একটি বোর্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দরকার উন্নতমানের তিরধনুকের বেশ কয়েকটি সেট। এছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা প্রশিক্ষণ নিতে আসছেন তাঁদের জন্য যদি একটু টিফিনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে অনেকটা উপকৃত হতে পারেন শিক্ষার্থীরা। মন্দিরা অনেক কষ্ট করে এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। আমি চাই ও আরও অনেকদূর যাক।

গাজোল বিএসএর সম্পাদক সুভাষ রায় বলেন, সপ্তাহে দুইদিন এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উন্নতমানের প্রশিক্ষণ পেলে এখান থেকে আরও অনেক প্রতিভা বের হতে পারে। দীর্ঘদিন মন্দিরা এখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ওর সাফল্যে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। আমরা রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ে কাছে আবেদন জানাচ্ছি আমাদের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে সাহায্য করার জন্য। তাহলে মন্দিরার মতো আরও অনেক তিরন্দাজ উপহার দিতে পারব আমরা। প্রার্থনা করব তিরন্দাজিতে যেন অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে মন্দিরা।