টিন দিয়ে ঘিরে গোপনে কাটা হচ্ছিল আমগাছ, অভিযোগ পেয়ে রুখলেন বনকর্মীরা

119

হরিশ্চন্দ্রপুর: টিন দিয়ে বাগান ঘিরে অবৈধভাবে আম গাছ কাটার অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুর। কাটা পড়ল মুকুলসহ 30 টি গাছ। গাছ কাটা রূখলেন বনদপ্তর এর কর্মীরা। এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর টিন দিয়ে বাগান ঘিরে বন দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই চলছিল অবৈধভাবে আম গাছ কাটা। খবর পেয়ে চাঁচোল বন দপ্তরের কর্মীরা ছুটে আসেন। বন্ধ করা হয় গাছ কাটার কাজ। তবে তার আগেই ত্রিশটি মুকুলসহ আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বারদুয়ারী গ্রামে। এনিয়ে শুরু হয়েছে শাসক তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা। এভাবে আমের ফলনের মুখে মুকুলসহ ৩০টি তাজা আম গাছ কেটে ফেলায় উদ্বিগ্ন পরিবেশকর্মীরাও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এভাবে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায় প্রচুর গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে। আমের বাগান কেটে কোথাও গড়ে তোলা হচ্ছে বসতি এলাকা কোথাও বা ফ্যাক্টরি। এর ফলে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের। পরিবেশ রক্ষার্থে যথেচ্ছাচার বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।

ওই আম বাগানের মালিক অনুজ আগারওয়ালের দাবি, তিনি যাকে গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছিলেন সেই ব্যক্তি জানিয়েছিল গাছ কাটার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু আদতে কোন অনুমতি কাগজ দেখাতে না পারায় তিনি নিজেই গাছ কাটার কাজ বন্ধ করেছেন। তবে গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে বনদপ্তরের কাছে আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে চাঁচোল রেঞ্জের আধিকারিক মনীন্দ্রনাথ থকদার জানিয়েছেন, হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে একটি আমবাগানে গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পেয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

হরিশ্চন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বারদুয়ারি যাওয়ার রাস্তার পাশেই রয়েছে ওই আমবাগান। সেখানে রয়েছে শতাধিক আমগাছ। ওই আমবাগানের মালিক ভোলানাথ আগরওয়াল। তার ছেলে অনুজ আগরওয়াল নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গাছগুলি কাটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গাছ কেটে জমির একাংশে নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। তবে গাছ কাটতে হলে নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হয়। যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে তা পরে রোপণ করতে হবে বলেও সরকারি নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই ৩০টি বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুরের এক সমাজসেবী তথা পরিবেশপ্রেমী চন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘ সরকার প্রচার করছে, একটি গাছ, একটি প্রাণ। বৃক্ষরোপণের জন্য টাকা খরচ করছে। তারপরেও কীভাবে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গাছগুলি কেটে ফেলা হল তা ভাবতে অএবাক লাগছে।’ তিনি এও বলেন, বিশেষ করে শুক্রবার গাছগুলি কাটা হয়েছে। কারণ শনি ও রবিবার ছুটি। প্রশাসন, বন দপ্তর আইনমাফিক পদক্ষেপ না করলে পরিবেশপ্রেমীরা মিলে অবস্থানে বসব। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস বলেন, ওই বাগানের গাছ অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে। বাগানের মালিক বিজেপি করেন। বিজেপির মদতেই উনি এই অবৈধ কাজ করছেন। বিজেপির মালদহের জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন, ‘তৃণমূলের মদতেই গাছগুলি কেটে ফেলা হচ্ছে।শাসকদলের মদত ছাড়া এও কাজ সম্ভব নয়।আম বাগানের মালিক বিজেপির কেউ নন।’ হরিশ্চন্দ্রপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ আদিত্য মিশ্র বলেন, ‘ওই আমগাছ অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে বলে শুনেছি। বিষয়টি প্রশাসনের পাশাপাশি বন দফতরকে জানিয়েছি। তারাই সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’