অশান্ত সময়ে মণিকার ভরসা যোগা-বই-নাচ

নয়াদিল্লি : করোনাকালে ক্রীড়াবিদদের মানসিক শান্তি বড় ইস্যু। ক্রিকেট গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বা টেনিসে নাওমি ওসাকার পদক্ষেপ আলো ফেলেছে তুলনায় উপক্ষিত এই অংশে।

ভারতীয় টেবিল টেনিসের বর্তমান সম্রাজ্ঞী মণিকা বাত্রাও মানসিকভাবে ঠিক থাকার ক্ষেত্রে সামান্য ফাঁক রাখতে রাজি নন। তাই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি নিজের মনকে ভালো রাখেন। এক্ষেত্রে মনসংযোগ বাড়ানোর জন্য ধ্যান এবং যোগা করেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আগে এর উপর বিশেষ জোর দেন। সঙ্গে থাকে বই, গান ও নাচ। তাঁর কথায়, আমি নিয়মিত ধ্যান করি। এছাড়া অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ি। শান্ত থাকতে গান শুনি। এমনকি একা থাকলে নাচও করি। এটা আমার কাছে ক্লান্তি কাটানোর একটা বড় পথ।

- Advertisement -

তবে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে টিটি অনুশীলনের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়ে যান। মনিকা বললেন, লকডাউন শুরুর সময় সঙ্গী তো পরের কথা, আমার কাছে অনুশীলনের জন্য একটা বোর্ডও ছিল না। তাই বাড়িতে শরীরচর্চা করে নিজেকে ফিট রাখা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারিনি। অপেক্ষা করছিলাম কবে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হবে। এরপর সুযোগ পেয়ে অন্যত্র চলে যাই। সেখানে নিরাপদে অনুশীলনের সমস্ত ব্যবস্থা ছিল। এজন্য আমি পুণের সেন্টারের সকল কর্মী এবং সাইকে ধন্যবাদ জানাই।

২৬ বছরের মণিকা আগে রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন। মিক্সড ডাবলসে তাঁর সঙ্গী আচান্তা শরথ কমলের এটি চতুর্থ অলিম্পিক। এই অভিজ্ঞতা গেমসে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন তিনি। বললেন, কম বয়সে বড় মঞ্চে খেললে প্লেয়ার হিসেবে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। এতদিন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। শরথ প্রসঙ্গে তাঁর মত, ওর মানের প্লেয়ারের থেকে সবসময় কিছু শিখতে পারি। চেন্নাই ও সোনপথে ওর সঙ্গে খেলেছি। টোকিওয় আমাদের স্ট্র‌্যাটেজি এবং টেকনিক কী হবে তা নিয়ে কথা হয়েছে।

টোকিও থেকে খালি হাতে ফিরতে নারাজ মণিকা। তাঁর কথায়, যোগ্যতা অর্জন করেই থামলে হবে না। এখন আমার ফোকাস শুধুই অলিম্পিক। জানি অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। তবে সাফল্যের জন্য আমি কষ্ট করতে রাজি। কষ্টের ফল টোকিওয় পাবেন মণিকা, আশাবাদী ভারতও।