মানিকচক: দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও নিখোঁজ তিন

404

মানিকচক: মানিকচকে ভেসেল দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। ভেসেল ওভারলোডিংয়ের জন্য এই দুর্ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের দাবি। স্টোন চিপসবোঝাই লরিগুলি ওভারলোডেড ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ডুবে যাওয়া আটটি লরির মধ্যে মঙ্গলবার উদ্ধার হয়েছে একটি লরি। দফায় দফায় এক ঝাঁক পুলিশ-প্রশাসনিক কর্তা ও জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়েছেন। সোমবার রাতে দুর্ঘটনার পরে পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। অন্যদিকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত লঞ্চকে কেন ছেড়ে দেওয়া হল, সন্ধে নামার পরে কেনই বা পণ্যবাহী যান আসার অনুমতি হচ্ছে, এই সমস্ত প্রশ্ন তুলে দুর্ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন বাম-বিজেপি-কংগ্রেস নেতৃত্ব।

মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। একটি লরি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার আবার নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হবে। লরিগুলি তোলার চেষ্টা করা হবে। এজন্য ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে হাইড্রোলিক ক্রেন আনা হচ্ছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত পণ্যবাহী লঞ্চটিকে কেন রাখা হয়নি তা তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি একথাও বলেন যে, ওই লঞ্চের কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি হয়নি। কোনও টেকনিক্যাল ইস্যু নেই। লরির ভারসাম্যহীনতার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এখন তদন্ত চলছে। সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন, দুজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলবে। এদিন একটি দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া লরি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কিনা বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভেসেলকে ছেড়ে দেওয়া হল কেন এ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

- Advertisement -

সোমবার মানিকচকে ঘাটে গঙ্গায় পণ্যবাহী লঞ্চে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঝাড়খণ্ডের রাজমহল ঘাট থেকে পাথরবোঝাই আটটি লরি মানিকচক ঘাটে আসছিল। সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। লরিগুলি তাড়াহুড়ো করে অস্থায়ী জেটিতে নামতে গিয়ে লঞ্চের ডানদিকে ভার বেশি হয়ে যায় ফলে ভারসাম্য হারিয়ে পরপর ট্রাকগুলি উলটে নদীতে পড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের দাবি। ভেঙে যায় লঞ্চের রেলিং। ক্ষতিগ্রস্ত হয় লঞ্চের একাংশ। ওই লঞ্চে খালাসী ড্রাইভার এবং লঞ্চের কর্মচারী সহ ২২ জন লোক ছিলেন। অনেকে জলে ডুবে যাওয়ার পর সাঁতরে উপরে উঠে আসেন। তারপরেও জনাদশেক নিখোঁজ থেকে যান। ততক্ষণে মানিকচক থানার পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে হাজির হয়। চলে তল্লাশি। কয়েক ঘণ্টায় সাতজনকে উদ্ধার করা হয়। এরা মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতাল এবং মালদা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।

জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, ঘটনাস্থলে এনডিআরএফ এর ৩৮ জনের উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রয়েছে। গতকাল রাতেই ডুবুরি নামানো হয়েছে। মঙ্গলবার এনডিআরএফ বাহিনীর নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালায়। ডুবে যাওয়া লরিগুলি চিহ্নিত করা গিয়েছে। এদিন একটি লরি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি লরিগুলি উদ্ধারের জন্য বুধবার ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি হাইড্রোলিক ক্রেন আনা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। যদিও স্থানীয় সূত্র এবং সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, এখও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন, মাইনুল সেখ, মন্টু শেখ। এরা লরির চালক ও খালাসি। অন‍্যজন তারাচাঁদ যাদব। তিনি ওই পণ্যবাহী লঞ্চের মেকানিক। এদের সকলের বাড়ি ঝাড়খন্ডে। নিখোঁজের সন্ধানে তাদের আত্মীয়রা সকাল থেকে নদীর পাড়ে ভিড় জমান।