মণীশ শুক্লা কাণ্ডে যোগসূত্র ডাকাতদলের, চাঞ্চল্যকর দাবি সিআইডির

0
448
- Advertisement -

বর্ধমান: সিআইডি তদন্ত এবার চাঞ্চল্যকর মোড় নিল বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে খুনের ঘটনায়। সিআইডির গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মণীশ শুক্লাকে খুনের ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে বর্ধমান শহরের স্বর্ণঋণ দান সংস্থায় ডাকাতির সঙ্গে। মণীশ শুক্লাকে খুনের ঘটনার জড়িতরাই ওই স্বর্ণঋণ দান সংস্থায় ডাকাতি করেছিল বলে সিআইডির গোয়েন্দারা একপ্রকার নিশ্চিৎ হয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দারা এদিন জানতে পেরেছেন, বিহারের কুখ্যাত অপরাধী সুবোধকান্ত সিং পাটনা জেলে বসেই বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে খুনের ছক কষেছিল। আর এমন তথ্য সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বর্ধমান শহরজুড়ে।

জানা গিয়েছে, তদন্তে এমনটা উঠে আসার পরেই সিআইডি গোয়েন্দারা পৌঁছে যান বিহারের পাটনায়। মঙ্গলবার দুপুরে বিহারের পাটনা স্টেশন রোড এলাকা থেকে সিআইডি, সঞ্জয় কুমার রায় নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বাড়ি বিহারের বৈশালি জেলার বিদুপুর থানার কৈলাচকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজেপি নেতাকে খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্তের সঙ্গে সঞ্জয়ের সম্পর্ক থাকার বিষয়ে সিআইডির গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। সিআইডি গোয়েন্দারা মনে করছেন, সঞ্জয় কুমার রায়কে জেরা করেই বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্তদের সন্ধান মিলবে।

সিআইডি টিম ইতিমধ্যেই সঞ্জয় রায়কে নিয়ে কয়েক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। তবে বিজেপি নেতাকে খুনে মূল অভিযুক্তের হদিশ যদিও এখনও মেলেনি। সিআইডি গোয়েন্দাদের আশঙ্কা অভিযুক্তরা নেপাল সীমান্তে গা ঢাকা দিয়েছে। গেয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন, বর্ধমানের স্বর্ণঋণ দান সংস্থায় ডাকাতির ঘটনার আগে বিজেপি নেতাকে খুনের পরিকল্পনা ছকা হয়েগিয়েছিল। সেইমত ওই সময়ে গ্যাংটি কলকাতার বাগুইআটি থানার কৃষ্ণপুরে ঘরভাড়া নিয়ে ছিল। সেখান থেকেই তাঁরা স্বর্ণঋণ সংস্থায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ভাড়া ঘর থেকে পুলিশ কয়েকটি মদের গ্লাস, দু’টি হেলমেট প্রভৃতি বাজেয়াপ্ত করে। সেখান থেকে তাঁরা পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থানা এলাকায় এসে ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, স্বর্ণঋণ সংস্থায় ডাকাতি করার পর দুষ্কৃতীরা দু’টি দলে ভাগ হয়ে চম্পট দেয়। এই গ্যাংটি শিলিগুড়ি, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের বিভিন্ন স্বর্ণঋণ সংস্থায় ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত। ডাকাতি করা সোনা তাঁরা নেপাল ও গোয়াতে বিক্রি করত বলে, জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, সঞ্জয় কুমার রায়কে বৃহস্পতিবার পাটনা থেকে বর্ধমানে আনা হয়। স্বর্ণঋণ সংস্থায় ডাকাতির মামলায় এদিনই তাঁকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। সিআইডির ডিআরবিটি সেলের সাব-ইনসপেক্টর অরিজিৎ ভট্টাচার্য ধৃতকে ১১ দিন নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম সুজিৎ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ধৃতকে ১০ দিন সিআইডি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের বিসি রোডে থাকা স্বর্ণঋন দান সংস্থার অফিসে গত ১৭ জুলাই দুপুরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এবং কর্মীদের ভয় দেখিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর ডাকাতরা স্ট্রং রুমে ঢুকে ৩০ কেজি ২০৫ গ্রাম ২০ মিলিগ্রাম সোনার গহনা নিয়ে নেয়। এই ডাকাতির ঘটনার তদন্তকারী সিআইডি গোয়েন্দাদের একটি বড় টিম এখনও বিহার ও ঝাড়খণ্ডে রয়েছে। গোয়েন্দারা সেখানকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।

- Advertisement -