অলিম্পিকের টিকিটই লক্ষ্য আফগান ব্রেকডান্সার মানিজার

কাবুল: বিপ্লবের আরেক নাম মানিজা তালাশ। যে দেশে মেয়েরা ঠিকমতো পড়শোনার সুযোগ পায় না, সেখানে ব্রেকডান্সার হিসেবে অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মানিজা। আফগানিস্তানের বছর আঠারোর এই মেয়ে খুনের হুমকি সত্ত্বেও পিছু হটতে রাজি নন। বরং দেশের মাটিতেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। তাঁকে দেখে যাতে অন্য মেয়েরাও এগিয়ে আসে, সেটাই লক্ষ্য।

কাবুলের এক মিক্সড মার্শাল আর্ট সেন্টারে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন মানিজা। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ব্রেকডান্সিং যোগ করা হয়েছে। সেখানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তাঁর কথায়, আমি অন্যদের মতো হতে চাই না। আমি আফগানিস্তানে একজন রোলমডেল হতে চাই। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চাই।

- Advertisement -

মেয়েদের ঘরের বাইরে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখে না আফগানিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দেওয়া, তাদের উপর প্রাণঘাতী হামলা একেবারেই নিত্যদিনের বিষয়। এমন অবস্থায় ছাড় পাননি মনিজা নিজেও। একাধিকবার খুনের হুমকি পেয়েছেন। কিন্তু তাতে ভয় পেয়ে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেবেন না, জানালেন তিনি। কয়েক মাস আগেও তিনি দেশের একমাত্র মেয়ে ব্রেকডান্সার ছিলেন। বর্তমানে তাঁদের ক্লাবে আরও পাঁচজন মেয়ে অনুশীলন করছেন। বছরখানেক আগে চালু হওয়া এই ক্লাবে এখন ৩০ জন সদস্য। এখন প্রতি সপ্তাহে তিনদিন তাঁরা অনুশীলন করেন।

তাঁদের প্রশিক্ষক সাজিদ তেমুরিয়ানের কথায, আমাদের হাতে আর ৪ বছর সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা অন্তত দু-একজন মেয়েকে আন্তর্জাতিক স্তরে যাওয়ার জন্য তৈরি করতে চাই। এজন্য অন্য মেয়েদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

কোনওদিন কট্টরপন্থীরা ক্ষমতায় ফিরলে নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় পান মানিজা। বললেন, আমি মাঝে মাঝে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি। ওর ক্ষমতায় এলে আমি আর হয়তো ব্রেকডান্সের অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবো না। সেটা ভেবেই আমার মন খারাপ হয়ে যায়।

ব্রেকডান্সিং সম্পর্কে মানিজার মত, এটা শেখা ও করা সহজ নয়। অনেক সময় আমাদের গোটা শরীরের ভার একটা হাতের উপর দিতে হয়। এজন্য শারীরিক শক্তি চাই। তবে কোনও কিছুই সহজ নয়। আমি মনে করি, শেখার মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছোনো যায়। ব্রেকডান্সিংয়ের জন্য আফগানিস্তানের মতো দেশে মেয়েদের শারীরিক শক্তির থেকেও মানসিক জোর বেশি প্রয়োজন। মানিজার যে সেই জোর ভালোই আছে, তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন।