ভারত জানে কীভাবে যোগ্য জবাব দিতে হয়, নাম না করে চিনকে কড়া বার্তা মোদির

380

অনলাইন ডেস্ক: লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে যারা তাকিয়েছে, তাদের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ভারত-চিন সীমান্তে চলা উত্তেজনার প্রসঙ্গে রবিবার এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রথম সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী।

মাসের শেষ রবিবারে মন কি বাত অনুষ্ঠানে এদিন দেশবাসীর মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতার সিংহভাগ জুড়েই ছিল সীমান্তে চলা উত্তেজনার প্রসঙ্গ। তবে তাঁর কথায় এদিন করোনা, আমপান, ও পঙ্গপাল হানার প্রসঙ্গ এসেছে। তিনি বলেন, ভারত যেমন বন্ধুত্ব করতে জানে, তেমনই কীভাবে কড়া জবাব দিতে হয় তাও জানে। চিনের মোকাবিলায় ভারত যে আরও কড়া পদক্ষেপ করতে পারে, তা এদিনের ভাষণে স্পষ্ট করে দেন মোদি।

- Advertisement -

গালওয়ান উপত্যকায় চিনের হামলায় শহিদ জওয়ানদের প্রসঙ্গে নমো বলেন, আমাদের বীর প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা কোনভাবেই ভারতমাতার গৌরব ক্ষুন্ন হতে দেবেন না। দেশকে রক্ষায় জওয়ানদের পাশাপাশি প্রত্যেক দেশবাসীকে শপথ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শহিদ সেনাদের পরিবারের কথাও এদিন তুলে ধরেছেন মোদি। তিনি বলেন, আপনারা দেখতেই শহিদ সেনাদের বাবা-মায়েরা বলেছেন, তাঁদের অন্য সন্তানেরাও সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। বিহারের শহিদ জওয়ান কুন্দন কুমারের বাবার কথাও মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন তাঁর বাবা বলেছেন, তিনি তাঁর নাতিকেও দেশরক্ষার কাজে পাঠাতে চান বলে অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে দু’দেশের সেনা। চিনকে কড়া জবাব দিতে ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ভারতীয় বায়ুসেনা। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে গিয়েছে ভারত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চিনের মাতব্বরি যে আর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, ভারত তা স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিল। ‘আকাশ’ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মিশাইল।

উল্লেখ্য, লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে গত প্রায় দু’মাস ধরে উত্তেজনা চলছে। ১৫ জুন রাতে পূর্ব লাদাখে চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে কুড়ি জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছেন। পাশাপাশি ৪৩ জন চিনা সেনার হতাহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও চিন এখনও তা স্বীকার করেনি। তবে একজন চিনা কমান্ডিং অফিসারের মৃত্যু হয়েছে বলে মেনে নিয়েছে চিন।

এদিন করোনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, লকডাউনের তুলনায় আমাদেরকে আনলক পর্বে আরও সতর্ক থাকতে হবে। পাশপাশি তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাস্ক না পড়লে ও সামাজিক দূরত্ব না মানলে নিজেদের সঙ্গে অন্যদেরও বিপদ হতে পারে।