আইসিসি থেকে সাহানির বিদায় নিশ্চিত

দুবাই : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মুখ্য নির্বাহীর পদ থেকে মনু সাহানির বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, বুধবার ও বৃহস্পতিবার আইসিসির পরিচালকরা ভিডিও কনফারেন্স করবেন। সেখানেই তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০১৯ সালে আইসিসিতে যোগ দেন সাহানি। শুরু থেকেই তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ আইসিসির অধিকাংশ কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, স্বৈরাচারীর মতো অফিস পরিচালনা করেন সাহানি। অধস্তন কর্মীদের সঙ্গে প্রতিপদে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কোনও মাথাব্যথাই নেই। একের পর এক কর্মীর থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেন আইসিসির পরিচালকরা। এরপরই প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্স (পিডব্লিইসি)-কে বিষয়টি তদন্তের জন্য নিয়োগ করা হয়। তদন্ত চলাকালীন সাহানিকে অফিসে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

- Advertisement -

তবে অফিসে না এলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাহানি। এমনকি মার্চের শুরুর দিকে আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্টে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মেয়েদের বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর কথা তিনিই ঘোষণা করেন। পিডব্লিউসির প্রাথমিক রিপোর্ট কর্মীদের অভিযোগে মান্যতা দেয়। এরপর সাহানিকে ছুটিতে পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, পিডব্লিইসির তদন্তে আইসিসির ৯০ শতাংশেরও বেশি কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে সাহানিকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। গত সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে অবশ্য তাঁদের সামনে হাজির হননি সাহানি।

আইসিসি সূত্রে খবর, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহানির ভূমিকা নিয়ে বিরক্ত বোর্ড সদস্যরা। ভারত সহ বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। পাশাপাশি শশাঙ্ক মনোহরের বিদায়ে পর আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচনেও নাক গলানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমন অবস্থায় কর্মীদের অভিযোগ সাহানির বিদায়ে অনুঘটকের মতো কাজ করছে। আইসিসির এক কর্তার কথায়, সাহানির নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন পরিচালক ইন্দ্রা নুয়ির বক্তব্য জানতে চেয়েছি। সাহানির নিয়োগের সময় নুয়ি বোর্ডে ছিলেন।