ডেভিড-কৃষ্ণার মুখেও মানবীরের নাম

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : রয় কৃষ্ণা-ডেভিড উইলিয়ামসদের পাশেও উজ্জ্বল তিনি। ফিজিয়ান তারকার মুখেও তাঁর উচ্ছসিত প্রশংসা। তাই শুধু দলকে ফাইনালে তোলাই নয়, এই মরশুমে সম্ভবত বাগানের উঠতি উজ্জ্বল তারকা মানবীর সিং-ই।

ভারতীয় স্ট্রাইকারদের মধ্যে সুনীল ছেত্রীর ৮ গোল। তারপরেই আছেন মানবীর (৬)। এই উন্নতির কারণ যে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কোচিংয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া, সেকথা জানাতে দ্বিধা করছেন না পাঞ্জাব দা পুত্তর। ২৫ বছর বয়সী মানবীর গত তিন মরশুমে মাত্র সাত ম্যাচে শুরু থেকে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখানে এবার খেলেছেন মোট ১৫ ম্যাচ। তাছাড়া প্রাক মরশুম প্রস্তুতিও বিশেষ কাজে লেগেছে বলে ধারনা তাঁর। হাবাসের কাছে আসার আগে মানবীর মিনার্ভা পাঞ্জাবের অ্যাকাডেমিতে গিয়ে অনুশীলন করছিলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মানবীরের মন্তব্য, এটা আমার সেরা মরশুম। এবার আমি যেমন নিজে গোল করেছি তেমনি গোলের বলও বাড়িয়েছি। মিনার্ভা পাঞ্জাব অ্যাকাডেমিতে গিয়ে মরশুম শুরুর আগে প্রস্তুতি নেওয়া খুব কাজে লেগেছে। প্রতিদিন অনুশীলনে আমি নিজের ১০০ শতাংশ দিয়ে থাকি। আর তারপর ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরি।

- Advertisement -

গোয়ার হয়ে গত তিন মরশুমে ৪৭ ম্যাচ খেললেও শুরু থেকে মাত্র সাত ম্যাচে তাঁকে নামানো হয়। কিন্তু এই যে বেশি খেলার সুযোগ পাওয়া, এটাই যে তাঁর কাজে লেগেছে সেকথাও বলছেন মানবীর, আমার কাছে হাবাস সেরা কোচ। মাঠে ওঁর পরিকল্পনা দারুন কাজে দেয়। উনি জানেন, কখন দল আক্রমনে যাবে আর কখন রক্ষনাত্মক হতে হবে। তাছাড়া যারা খেলছে না, তাদেরও কিভাবে তৈরি রাখতে হবে সেদিকেও খুব ভালো খেয়াল রাখেন তিনি। তিনি যে বাকি দুই স্ট্রাইকারের সঙ্গে আলাদাকরে অনুশীলনে বিশেষ সময় দেন, সেকথা জানিয়ে বলেন, আমি, রয় আর ডেভিড একসঙ্গে অ্যাটাকিং ইউনিট হিসাবে আলাদাকরে অনুশীলন করি। যা মাঠে কাজে দেয়। এই বিষয়ে এই তরুন সতীর্থের প্রশংসা রয় কৃষ্ণার মুখেও, মানবীরের শেখার ইচ্ছা প্রবল। ও অনুশীলনে যেটা শেখে বা আমরা সিনিয়ররা যা বলি সেটা ও মন দিয়ে শোনে এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

এবার সামনে ফাইনাল হার্ডল। গ্রুপ লিগে দুবারই হারতে হয়েছে মুম্বই সিটি এফসির কাছে। তাই বাড়তি সতর্কতা বাগান শিবিরে। মানবীর জানালেন, সেমিফাইনাল ম্যাচের পর বাবা (প্রাক্তন ফুটবলার কুলদীপ সিং) ফোন করেছিলেন। বলেছেন, সেমিফাইনালে গোল করে দলকে ফাইনালে তুলছো, খুব ভালো কথা। এবার ফাইনালে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে হবে। বাবার এই ইচ্ছা রাখতে চাই। প্রতিপক্ষ হিসাবে মুম্বইকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, অবশ্যই খুব শক্তিশালী দল। তবে অপরাজেয় নয়। গ্রুপ লিগে ওদের একবারও আমরা হারাতে পারিনি। ওই ম্যাচগুলোতে যেসব ভুল আমাদের হয়েছিল, সেসব যাতে আমাদের আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখব। আমাদের দলের যা চরিত্র তাতে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। এর আগে এফসি গোয়ার হয়ে ফাইনালে উঠেও জেতা হয়নি বলেই এবার ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা ইচ্ছা নিয়ে মাঠে নামবেন এই সদ্য তারকা মেরিনার্স।