ক্লাবঘরের বেআইনি ভাড়ায় বিপদ শিলিগুড়ি শহরে

105

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভবনের চাহিদা বাড়তে থাকায় নানা বেনিয়মের অভিযোগ উঠছে শিলিগুড়ি শহরে। অনুষ্ঠানবাড়ির অনুমোদন ছাড়াই পুর এলাকার বেশ কিছু ক্লাব ভবন ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছে। অথচ ক্লাবগুলিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই বলে অভিযোগ আছে। বিয়ে হোক কিংবা অন্য অনুষ্ঠান, গাড়ির ভিড় থাকেই। বিয়েবাড়ি হলে বাসে বরযাত্রী বা কন্যাযাত্রী আসে। কিন্তু কোনও ক্লাবের পাশেই পার্কিংয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে তৈরি হয় যানজট। ভোগান্তি হয় শহরবাসীর। বসতি এলাকায় তারস্বরে ডিজে বাজিয়ে অনুষ্ঠান হলে সমস্যা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাছাড়া আছে অনুষ্ঠানবাড়ির আবর্জনা সাফাইয়ের সমস্যা। ভবন ভাড়া দিতে হলে পুরনিগমের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। সেসব মেনে পুরনিগমের অনুমতি নিতে হয়। প্রয়োজন হয় দমকলের শংসাপত্র এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। শহরের বেশ কিছু ক্লাবে সেসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে ভবন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা।

ক্লাব কর্তারা ভবন ভাড়া দেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন না। বরং তাঁদের দাবি, সব নিয়ম মেনেই ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অসঙ্গতি যে কিছু থাকছেই, তা স্পষ্ট পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তথা ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমল আগরওয়ালের কথায়। তিনি বলেন, শুধু ক্লাবই নয়, সমস্ত ক্ষেত্রেই কোথাও যদি সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভবন ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স  নিতে হবে। তাছাড়া ভবনের বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করাতে হবে। যাবতীয় নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। অধিকাংশ ক্লাবেরই কিন্তু ট্রেড লাইসেন্সের বালাই নেই। নেই দমকলের শংসাপত্র। শহরের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা রথীজিৎ রায় বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পার্কিংয়ে সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনুষ্ঠান হলেই এলাকায় যানজট চরম আকার ধারণ করে। চম্পাসারি এলাকার পল্লব দাস বলেন, ক্লাবগুলিতে প্রায়ই রাতবিরেতে ব্যান্ড পার্টি, ডিজের শব্দে টেকা মুশকিল হয়। কিছু বললেই ঝামেলা হয়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে এলাকায় প্রভাবশালী ক্লাবের সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানান না। কিন্তু তাঁরাই সবচেয়ে ভুক্তভোগী হন। অধিকাংশ ক্লাবের সঙ্গেই রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি যোগ থাকায় আরও কেউ ঘাঁটাতে চান না। যেসব ক্লাব ভবন ভাড়া দেয়, সেগুলির অন্যতম রবীন্দ্রনগরের রবীন্দ্র সংঘ। এই ক্লাবটির অন্যতম কর্মকর্তা শ্যামল নন্দী বলেন, আমাদের ক্লাবের পিছন দিকে পার্কিংয়ে জায়গা রয়েছে। আশপাশেও গাড়ি দাঁড়ায়। তবে কোনওদিন অভিযোগ শুনিনি। আমাদের ফায়ার লাইসেন্স নেওয়া আছে। সূর্যনগর ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের সম্পাদক তথা তৃণমূল নেতা মদন ভট্টচার্যের বক্তব্য, প্রতিবেশীরা বরং গাড়ি রাখার ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতাই করেন। ডিজে বাজানো বা মদ্যপান যাতে না হয়, সেদিকে আমাদের নজর থাকে। মডার্ন বয়েজ ক্লাবের সভাপতি গৌতম প্রামাণিক বলেন, ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটরকে বলে আমরা ডাস্টবিন নিই। আবর্জনা সাফাইয়ের সমস্যা হয় না। অনুষ্ঠানে বাজনার ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

পুরনিগমের নিয়ম হল, সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভবন ভাড়া দিতে হলে আগে সেই ভবনের বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করাতে হয়। তারপর ফায়ার লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেউ এসব করে না বলে অভিযোগ। অপেক্ষাকৃত ছোট রাস্তার পাশে ক্লাব যদি ভবন ভাড়া দেয়, তাহলে পার্কিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সবক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। অনুষ্ঠানের উচ্ছিষ্ট অনেক সময় ক্লাবগুলির আশপাশের নালার মধ্যে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক সাফাইকর্মীর কথায়, এলাকার একটি ক্লাবে অনুষ্ঠান থাকলে পরদিন গিয়ে দেখি,  পাশের নালায় পাতা থেকে শুরু করে নানা উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকে। সাফাই করতে আমাদের কালঘাম ছুটে যায়।