শুধু হাত ধুয়ে বহু মৃত্যু এড়ানো সম্ভব

87

ডাঃ শান্তনু রায়
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে যখন সারা বিশ্ব অস্থির, তখনও কিছু কিছু মানুষের যেন হুঁশ ফেরে না। অনেকেই এখনও হাত ধোওয়ার অভ্যেসটা রপ্ত করে উঠতে পারেননি। সত্যি বলতে, বাইরে থেকে বাড়িতে এলে হাত-পা ধোয়া বা খাবার আগে হাত ধোয়া আমাদের দেশের প্রাচীন প্রচলিত রীতি। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে এই নিয়ম মানা হয় না। ফলে ওইসব দেশে জীবাণুঘটিত রোগের প্রকোপ ও শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। এ বিষয়ে সচেতন করতে রাষ্ট্রসংঘ ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে পালন করে আসছে গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে।

- Advertisement -

এ বিষয়ে আমাদের দেশে করোনার সময় সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বাড়লেও অজ্ঞতারও শেষ নেই। যে কারণে করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া সম্ভব হচ্ছে না সেভাবে। যাইহোক, ছোট থেকেই বাচ্চাদের মধ্যে দাঁত মাজা বা মুখ ধোয়ার মতোই হাত ধোয়াও আবশ্যিক করে তুলতে হবে। ছোট-বড় সকলকেই প্রতিবার খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চারা সহজেই ডায়ারিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। শুধুমাত্র হাত, পা ধুয়ে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে অনেকাংশে বাচ্চাদের এই রোগ দুটিকে এড়ানো যায়। তাই যে সব পরিবারে ছোট বাচ্চা আছে, বিশেষভাবে সতর্কতা নিতে হবে সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকেই। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র সঠিকভাবে হাত ধুলেই প্রায় পঁয়ত্রিশ লক্ষ শিশুর মৃত্যু আটকানো সম্ভব।

ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালের হাঙ্গেরিয়ান চিকিৎসক ডা. ইগনাজ সেমেনওয়াইজকে হ্যান্ড হাইজিনের জনক বলা হয়। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ডাক্তারি ছাত্ররা শব ব্যবচ্ছেদের পরেই ডেলিভারি করাত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মায়রা প্রসবের পরেই জ্বরে পড়তেন ও কয়েকদিনের মধ্যে মারা যেতেন। বিষয়টি প্রথম ডা. ইগনাজ লক্ষ্য করেন ও তাঁর হাসপাতালে ১৮৪৬ সালে ডেলিভারির আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া আবশ্যিক করা হয়। ফলে আশ্চর্যজনক ভাবে প্রসূতি মৃত্যুর হার কমে যায়।

রাষ্ট্রসংঘ শিশু ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হাত ধোয়ার সুঅভ্যাস গড়ে তোলার উপরে প্রথম থেকেই জোর দিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, এই ছোটরাই বড় হয়ে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের মধ্যে সুঅভ্যাস গড়ে তুলবে ও নিজেরা নিয়ম মেনে চলবে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ছোটদেরই বাড়ির বড়দের সচেতন করে তুলতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশের এই বিজ্ঞানসম্মত প্রাচীন রীতি একদিন পৃথিবীর সব দেশেই ছড়িয়ে পড়বে এবং আমরা বহু রোগ থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারব।
যোগাযোগ : ৭৬০৪০৭৫৫৫১