টাকা পড়ে রয়েছে, শিলিগুড়ি মহকুমার বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ হয়নি

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : কোথাও রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। কোথাও আবার বাঁধের অভাবে বর্ষায় জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী। অথচ সরকারি খাতায় চতুর্দশ অর্থ কমিশনের থেকে কোনও গ্রাম পঞ্চায়েত একটি আর্থিক বর্ষে এক কোটি টাকা পেয়েছে, অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত পেয়েছে তারও দ্বিগুণ। পাশাপাশি, রাজ্যের চতুর্থ অর্থ কমিশন এবং আইএসজিপিপি-র বরাদ্দ টাকাও রয়েছে। কিন্তু শিলিগুড়ি মহকুমার ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতই কার্যত ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে পাওয়া টাকার অধিকাংশই খরচ করতে পারেনি। কোনও কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে আগের দু-তিনটি অর্থবর্ষের টাকাও পড়ে রয়েছে। ডান এবং বাম, কোনও রাজনৈতিক দল পিছিয়ে নেই এই ক্ষেত্রে।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা বরাদ্দ হওয়ার মুখে কাজ নিয়ে অবশ্য তৎপর হয়ে উঠেছে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। যদিও এর অন্যতম কারণ, তিন-চার মাসের মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন। সমস্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে বর্ষার মুখে রাতারাতি টেন্ডার ডাকা হচ্ছে। যদিও তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু এতদিন কেন কাজের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি? প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের একই বক্তব্য, লকডাউন এবং বালি-পাথরের অভাব। করোনার প্রকোপ রোধে লকডাউন শুরু হয়েছে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহের পর। তার আগে কেন কাজ হয়নি, এই প্রশ্নে দায় এড়িয়েছেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার। তিনি বলেন, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের টাকা সরাসরি পেয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। কাজের দায়িত্ব প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের। এরপরও কিন্তু আমরা গত এক বছরে তিনটি রিভিউ মিটিং করেছি। কিন্তু কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত কাজের ক্ষেত্রে অনীহা দেখিয়েছে। মহকুমা পরিষদের আইএসজিপিপি (২)-এর সঞ্চালক সুহাস ঘোষের বক্তব্য, ইতিমধ্যে অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত কিছু টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করেছে। সমস্ত টেন্ডার যাতে জুন মাসের মধ্যে শেষ করে দেওয়া হয় তার জন্য প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে বলা হয়েছে। আশা করা যায় জুলাই মাসের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ হয়ে যাবে।

- Advertisement -

টাকার অভাব না থাকলেও উন্নয়ন নেই। প্রতিদিন পথ চলতে গিয়ে গ্রামীণ মানুষ হোঁচট খেলেও, তা নিয়ে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির ক্ষমতাসীন দলগুলির। কয়েক মাসের মধ্যে মহকুমা পরিষদের ভোট থাকায় এখন অবশ্য প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে বর্ষার বৃষ্টি কার্যত শুরু হয়ে য়াওযায় কাজের অগ্রগতি নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষের শেষে মাটিগাড়া ব্লকের আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৫ কোটি টাকা, মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩ কোটি টাকা, খড়িবাড়ি ব্লকের রানিগঞ্জ পানিশালি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের চটহাট-বাঁশগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, নকশালবাড়ি ব্লকের মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ২ কোটি টাকা এবং আপার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে। বাকি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতেও পড়ে থাকার টাকার অঙ্ক কম নয়।

মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হরেন বর্মন বলেন, ভেন্ডিং বাতিল হওয়ায় ৬টা কাজ করতে পারিনি। ওই কাজগুলি শুরু করার মুখে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। জুলাই মাসের মধ্যে ৭০ লক্ষ টাকার কাজ শেষ করা হবে। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অরুণ ঘোষ বলেন, কিছুদিন আগে টেন্ডারের কাজ শেষ করে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত কাজই দ্রুত শেষ করা হবে। লকডাউন, বালি-পাথরের জন্য দেরি হয়েছে কাজগুলির ক্ষেত্রে। আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অভিজিৎ পালের অবশ্য অভিযোগ, কোনও কাজ না করে গত চারটি অর্থবর্ষের টাকা ফেলে রেখে গিয়েছে আগের বোর্ড। ফলে কাজ করার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এরপরও দ্রুত সমস্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ৪০টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পড়ে থাকা টাকার কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস।