ইন্ডোর বন্ধ, ডাক্তার নেই আউটডোরেও, কোচবিহারে বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

409

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : চিকিৎসার পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলে যতই ঢাকঢোল পেটানো হোক না কেন, তার বাস্তব চিত্র রয়েছে ঠিক উলটো। মেডিকেল কলেজ, মহকুমা হাসপাতালগুলির মতো প্রায় প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় কোথাও ফার্মাসিস্টরা রোগী দেখছেন, আবার কোথাও পরিকাঠামোর অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও বহির্বিভাগ খোলা থাকলেও চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। যে কয়জন চিকিৎসক রয়েছেন তাঁরাও পরিষেবা দিতে কার্যত হিমসিম খাচ্ছেন। কবে সমস্যা মিটবে? সেই প্রশ্নের উত্তর অধরাই।

কোচবিহার জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। তার মধ্যে গ্রামীণ এলাকার মানুষ তাঁদের নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপরই নির্ভরশীল। করোনা পরিস্থিতির পর এমনিতেই মেডিকেল কলেজ ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে রোগীর সংখ্যা কমেছে। ফলে বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওষুধ নিতেই স্বস্তি বোধ করছেন অনেকে। আবার গ্রামীণ এলাকার দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ শহরে গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরিবর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধের ওপর ভরসা করে থাকেন। কিন্তু একের পর এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

- Advertisement -

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় ২৯টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানে ৫০ শতাংশের বেশি শূন্যপদ রয়েছে। বহু চিকিৎসকের পদ ফাঁকা থাকায় পরিষেবার মান তলানিতে ঠেকছে। জেলার ২৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টিতে অন্তর্বিভাগ থাকার কথা। কিন্তু বেশ কিছু প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তা বন্ধ। কোচবিহার-১ ব্লকের পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী ও চিলকিরহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ বন্ধ রয়েছে। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের পারডুবি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তর্বিভাগ বন্ধ। চিকিৎসকের অভাবে সেখানে বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন ফার্মাসিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ক্ষেতি ফুলবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগও বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় হলদিবাড়ির আঙুলদেখা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ প্রায় দেড় বছর থেকে বন্ধ রয়েছে। শীতলকুচিতেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। সেখানকার ছোট শালবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্তর্বিভাগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। দিনহাটা-১ ব্লকের ওকরাবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও চিকিৎসক নেই। সেখানকার ফার্মাসিস্ট দিয়ে কোনওরকমে বহির্বিভাগ চালানো হয়। সিতাই ব্লকের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সেখানকার ব্রহ্মোত্তরচাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নাকারজান ও আদাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পেটলা-আদাবাড়ি গ্রামে অবস্থিত দুটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটিতেও কোনও চিকিৎসক ও নার্স নেই। নাকারজানে রয়েছেন একজন সুইপার ও দুজন গ্রুপ-ডি কর্মী। ফলে অন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ। পেটলা-আদাবাড়িতে একজন করে ফার্মাসিস্ট ও গ্রুপ-ডি কর্মী রয়েছেন। ফার্মাসিস্টই সেখানে রোগীদের ওষুধ দেন। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের দেওচড়াই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাবে অন্তর্বিভাগ বন্ধ। বহির্বিভাগ চলছে কোনওরকমে। ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল নিয়ে জেলায় ক্ষোভ মারাত্মক আকার নিয়েছে। শূন্য পদে নিযোগ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরানোর দাবি উঠছে।