হাজার কোটি ক্ষতিপূরণেও বহু জমি হস্তান্তর হয়নি

জলপাইগুড়ি : জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ একহাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরও ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়ক রুটে ২২ কিলোমিটার জায়গা জমির মালিকরা ছাড়েননি। ফলে এই রাস্তার কাজ আটকে গিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলায় রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য স্থানীয়স্তরে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি দায়ী বলে মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ মনে করে। কোচবিহার জেলার মরিচবাড়ি, খোল্টা এবং ডুডুমারিতে ১০ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মালিকদের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩৯৬ কোটি টাকা দিয়েছে। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি রুটে ৩২ কিলোমিটার রাস্তার জন্য ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি রুটে ২০ কিলোমিটার জমি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে এলেও ১০ কিলোমিটার রাস্তা এখনও আসেনি। অথচ চারবছর আগে জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন। মহাসড়কের বিষয়ে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার অনিন্দ্য লাহিড়ি জানান, সংশ্লিষ্ট দুই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার জমির মালিকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি ও জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি রোডের ভগ্ন অবস্থা সম্পর্কে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, এতে জনসাধারণ এবং পরিবহণকর্মীদের অসুবিধা হচ্ছে। দোমোহনি এলাকায় আন্ডারপাসের কাজ ২০ দিন আটকে ছিল। কাজের দীর্ঘসূত্রিতার জেরে রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি বিঘ্নিত হয়েছে।

২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই মহাসড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে কোচবিহার জেলার মরিচবাড়ি, খোল্টা এবং ডুডুমারি গ্রামের জমি প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন মেটাতে জমি অধিগ্রহণের জন্য জমিদাতাদের ৩৯৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। জমিদাতাদের বক্তব্য, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বর্তমান বাজারদরের নিরিখে কম। তাই তাঁরা বর্তমান বাজারদরের নিরিখে দাম দেওয়ার দাবি তুলেছেন। প্রদু্য়ত্বাবু বলেন, জমির দাম দু’দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন করে জমির দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। তিনটি গ্রামের মালিকরা জমি হস্তান্তর করেননি। আলিপুরদুয়ার জেলায় ১২ কিলোমিটার জমি এখনও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে আসেনি। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি রুটে হাতে আসা ২০ কিলোমিটার রাস্তায় ১৫টি এমব্যাংকমেন্ট এবং ৩০টি কালভার্ট তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে এই মহাসড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার নির্ঘণ্ট ছিল। জমি না পাওয়ায় কাজ শেষ হবে কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

- Advertisement -

হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার অনিন্দ্য লাহিড়ি বলেন, জমিজট কাটানোর জন্য ইতিপূর্বে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা খুবই সদর্থক হয়েছে। কোচবিহারের ক্ষেত্রে ১০ কিলোমিটার এবং আলিপুরদুয়ারের ১২ কিলোমিটারব্যাপী জমি যাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে আসে সেই ব্যাপারে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।