তৃণমূলের কর্মীসভায় গরহাজির একঝাঁক নেতা

616

বীরপাড়া, ২৯ নভেম্বরঃ আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ায় রবিবার আয়োজিত কর্মীসভার মধ্য দিয়ে মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের প্রচারে কোমর বেঁধে নেমে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বীরপাড়ার পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।

এছাড়াও জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, সহসভাপতি নকুল সোনার, জেলা কোঅর্ডিনেটর পাশাং লামা, জেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তণ সাংসদ দশরথ তিরকি, আইএনটিটিইউসির চেয়ারম্যান মানিক দে, টিএমসিপির জেলা সভাপতি সমীর ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি কৌশিক সরকার প্রমুখ।

- Advertisement -

এদিন সন্মেলনের সূচনা করেন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় লামা। বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করার পাশাপাশি, মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা ভোটের প্রচারে বেরোলে তাঁর দিকে ছুঁড়ে দেওয়ার মতো একের পর এক প্রশ্ন কর্মীদের সাজিয়ে দেন মৃদুল গোস্বামী ও ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়। মৃদুলবাবু বলেন, ভারতবর্ষকে টুকরো টুকরো করার খেলায় মেতেছে বিজেপি। একের পর এক সরকারি সংস্থাকে বেসরকারি ও বিক্রি করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আরএসএস বাড়ি বাড়ি ঢুকে ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একের পর এক সরকারি প্রকল্পের দৃষ্টান্ত টেনে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একের পর এক চা বাগান খুলছে। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য চা সুন্দরী প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বারলা গত ১ বছরে কোনও উন্নয়নমূলক কাজই করেননি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

এদিন অবশ্য মিম প্রসঙ্গে কোনও শব্দ খরচ করেননি প্রথম সারির নেতারা। পরে মিম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, বাংলার মাটি সম্প্রীতির মাটি। এখানে বিভাজনের রাজনীতি সফল হবেনা। মিমের প্রথম সারির নেতারাই অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

এদিন কর্মীসভায় দেখা যায়নি জেলা কমিটির তিন সহসভাপতি পঙ্কজ দাস, পদম লামা, সঞ্জীব দত্ত, জেলা সম্পাদক উৎপল রায়, চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সহসভাপতি মান্নালাল জৈন সহ অনেককেই। প্রসঙ্গত মান্নাবাবু ও পঙ্কজবাবুর বাড়ির সামনেই কর্মীসভার মঞ্চ বাঁধা হয়। একইসাথে এদের অনুপস্থিতি নেহাত কাকতালীয় না কি লবির ইগোর লড়াই, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে কর্মীসভার পরই।

একই সাথে এতজন পরিচিত নেতার অনুপস্থিতি সম্পর্কে দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, কে বা কারা কেন আসেননি তা জানি না। দলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, আমাদের একজনই নেত্রী। তিনি মমতা বন্দোপাধ্যায়। বাকি সবাই কর্মী। ব্যক্তি হিসেবে কারও গুরুত্ব নেই। সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। হয়তো ব্যক্তিগত কারণে কেউ কেউ আসতে পারেননি। কর্মীরা উপস্থিত আছেন। সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রমিক সংগঠনের নেতা মান্নালাল জৈন বলেন, আমার আত্মীয়ের বাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার দিন পূর্বনির্ধারিত ছিল। এছাড়া কর্মীসভার আমন্ত্রণ পাই ২৭ নভেম্বর। এদিন পঙ্কজ দাস ও পদম লামার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। সঞ্জীব দত্ত এবং উৎপল রায়ও ফোন ধরেননি।