স্নেহের পরশের কুপন পাননি অনেকে, বাড়ছে অসন্তোষ

286

হরিশ্চন্দ্রপুর : ভিনরাজ্য ফেরত শ্রমিকদের জন্য কুপন বিলি শুরু হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন এলাকায়। প্রশাসনের দেওয়া কুপন দেখিয়ে ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল এবং ২ কেজি করে ডাল পাবেন। বুধবারও কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৪৫০ জনকে কুপন দেওয়া হয়। তবে বেশকিছু এলাকায় এখনও সরকারি কুপন না মেলায় শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সকলেই যাতে র‌্যাশনের কুপন পান, তা দেখা হবে।

সরকারি ঘোষণা মতো ভিনরাজ্য থেকে যে সব শ্রমিকরা এসেছেন, তাঁদেরকে স্নেহের পরশ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল এবং দুই কেজি করে ডাল দেওয়া হবে। সেই সংক্রান্ত মেসেজ ভিনরাজ্য ফেরত শ্রমিকদের মোবাইল ফোনে ঢুকতে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকেই হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক এলাকার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে র‌্যাশনের কুপন বিলি শুরু হয়ে গিয়েছে। কুপন নিতে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ভিড় করেন ভিনরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকরা। তবে সেই ভিড়ে কোনও মাস্ক ব্যবহার বা সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ে কোনও বালাই ছিল না। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েতের জন্য মোট ২৩০৭টি কুপন জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো হয়েছে। সোমবার কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের কুপন বিলি শুরু হয়। কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আখতারি বিবি বলেন, আনুমানিক সাড়ে চারশোর ওপর কুপন এই অঞ্চলে বিলি করা হয়েছে। যে কুপন বিলি করা গেল না, সেগুলি আমরা ব্লক অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। কুশিদা এলাকার বালুভরাট গ্রামের মোতালেব আলি বলেন, আমি রাজস্থানের জয়পুরে রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কাজ করতাম। কোনওরকমে টাকা জোগাড় করে বাড়ি ফিরে এসেছি। আজ মোবাইলে মেসেজ পেয়ে পঞ্চায়েত অফিস থেকে এই কুপন সংগ্রহ করলাম।

- Advertisement -

অন্যদিকে, কুপন না পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার দক্ষিণ রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ শামিম বলেন, গ্রামে প্রচুর শ্রমিক বাইরে থেকে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই এখনও কুপন আসেনি। আগামীতে আদৌ কি তারা কুপন পাবেন এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকায়।এমনকি তার গ্রামের করোনা সংক্রামিত শ্রমিকও কুপন পাননি। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, আপাতত ব্লকে যে ক’টি কুপন এসেছে তা আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিলি করার ব্যবস্থা করেছি। যাঁদের নামে কুপন এসেছে, তাঁদের কাছে মেসেজ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কুপন পাননি অথচ কোয়ারান্টিন সেন্টারে ছিলেন, তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাব। আশা করছি, কুপন না পাওয়ার সমস্যাটি খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে।