কুলিক ও নাগরের জলে প্লাবিত রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ অংশ

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: কুলিক ও নাগর নদীর জল বিপদসীমার কাছ দিয়ে বইতে থাকায় রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দারা কেউ কোমর জল, কেউ গলা জলে ভাসছেন। প্লাবিত এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা উঁচু বাড়িতে, কেউ কেউ ঘরের চালেই সংসার পেতেছেন। ইতিমধ্যেই কুলিকের বাঁধে অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে রায়গঞ্জ ছাড়াও ইটাহারের লক্ষাধিক বাসিন্দা বন্যার কবলে পড়তে পারেন।

- Advertisement -

ফলে বাঁধ রক্ষায় সেচ দপ্তরের পাশাপাশি বাসিন্দারা দিন-রাত নজরদারি ও বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। চারদিন হয়ে গেল জলবন্দি বাসিন্দাদের একাংশ বাসিন্দা কুলিক নদীর বাঁধের ওপর তাঁবু টাঙিয়ে রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ বাঁধে থাকা বাসিন্দাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি রায়গঞ্জ ব্লকের বিডিও রাজু লামা চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নানা এলাকা পরিদর্শন করেন।

বিডিও বলেন, জলবন্দি বাসিন্দাদের জন্য শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। ভিটিহারে একটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এছাড়াও কুলিক নদী সংলগ্ন আব্দুলঘাটায় শতাধিক মানুষকে ব্লক প্রশাসনের তরফে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মানস ঘোষ বলেন, কুলিক, নাগর, নোনা ও কাঞ্চন নদীর জল বাড়ায় নদীবাঁধ দুর্বল হয়েছে। আপাতত ৪০টি গ্রাম জলমগ্ন। ক্রমশ জল বাড়লে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেবে। তাই বাঁধের ওপর নজরদারির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাসিন্দারাই দিনরাত নজরদারি চালাচ্ছেন। ফাটল দেখলেই মেরামতের কাজে দ্রুত হাত লাগানো হচ্ছে।

সেচ দপ্তরের পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও বাঁধের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার উত্তম হাজরা বলেন, বাংলাদেশ থেকে কুলিক ও নাগর দু’টি নদীতে জল ঢুকে পড়ায় নদীগুলি বিপদসীমার মধ্যে দিয়ে বইছে। পাশাপাশি মহানন্দাও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। রায়গঞ্জ ব্লকের ভাতুন, জগদীশপুর, গৌরী ও বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৪০টি গ্রাম চারদিন ধরে জলের তলায় রয়েছে।

গত কয়েক দিনে জল বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্তীর্ণ এলাকায় রান্না খাবার, পানীয় জলেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনন্তপুর, দুপদুয়ার, রহমতপুর, ছোট ভিটিহার, ভিটিহার, নয়াতলি, গোয়ালদহ, বালিচড় গ্রাম এখন জলমগ্ন। চাষের জমি তলিয়ে গিয়ে চারদিকে শুধুই জল। বিশাহার ঘাটের বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে।

প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা অনেকেই কলাগাছের ভেলা, নৌকায় অস্থায়ী সংসার পেতেছেন। গবাদি পশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। গত কয়েকদিনে নদীর জল অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় কুলিক নদীর বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। গোরাহারে বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে মেরামত চলছে। এদিন ফের রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন আব্দুলঘাটা এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দিতেই তড়িঘড়ি সেচ দপ্তরের কর্তা বাদশারে নেমেছে। এলাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

সেচদপ্তর জানিয়েছে, নাগর নদী বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, কুলিক এক মিটার নীচ দিয়ে বইছে।