কলম্বো, ২১ এপ্রিলঃ ইস্টার সানডে-র সকালে মৃত্যুমিছিল শ্রীলঙ্কায়। তিনটি চার্চ ও তিনটি হোটেলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে নয়জন বিদেশীও। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দ্বীপরাষ্ট্রের প্রশাসন। গোটা শ্রীলঙ্কা জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। কলম্বোর রাস্তায় নেমেছে সেনা। হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিঙ্ঘে। এই বিস্ফোরণকে কাপুরুষোচিত বলে শ্রীলঙ্কার মানুষকে এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে থাকার কথা বলেছেন তিনি। বিস্ফোরণের পরই জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। আত্মীয় পরিজনের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন। সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার জন্যও আলাদা করে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতও। ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইট করে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ভারত সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা শ্রীলঙ্কার পাশে রয়েছে। তিনি প্রতি মুহূর্তে সেখানকার ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন।

সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কলম্বোর সেন্ট অ্যান্টনিজ চার্চে প্রথম বিস্ফোরণ হয়। এই বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতে নেগোম্বোর কাটুয়াপিটিয়ায় সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ ও কোচ্চিকাডের একটি চার্চে পরপর বিস্ফোরণ হয়। এই তিনটি গির্জাতেই সেই সময় ইস্টারের প্রার্থনা চলছিল। প্রার্থনা শুনতে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে অনেক  বিদেশি পর্যটকও যোগ দিয়েছিলেন। এই তিনটি গির্জা ছাড়াও কলম্বোর তিনটি প্রথম সারির হোটেল দ্য শাংগ্রি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবেরি হোটেলেও বিস্ফোরণ হয়। ওই হোটেলগুলিতেও বহু বিদেশি পর্যটক ছিলেন। এছাড়া সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলটি প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থানের কাছেই। ফলে চিন্তা আরও বেড়েছে শ্রীলঙ্কা প্রশাসনের।