বালুরঘাট শহরে আবাস প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা মেলেনি

278

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : বাড়ি ভেঙে কেউ রয়েছেন ভাড়াবাড়িতে, আবার কেউ কোনও মাঠের ধারে ত্রিপল টাঙিয়ে রয়েছেন। এমনই অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন বালুরঘাট শহরের হাজারেরও বেশি মানুষ। সরকারি প্রকল্পের ঘর পেতে গিয়ে এখন ওই পরিবারগুলির নাজেহাল দশা। তাঁদের ছেলেমেয়ে নিয়ে অত্যন্ত যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উপভোক্তারা। সবার জন্য গৃহ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না মেলার কারণেই এই সমস্যার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। কেন্দ্র বা রাজ্য থেকে টাকা না পাওয়ার কারণেই এই সমস্যা বলে জানিয়েছে পুরকর্তৃপক্ষ। তবে পুজোর আগেই উপভোক্তারা টাকা পেতে পারেন তা প্রকাশ করা হয়েছে পুরসভার পক্ষে।

যাঁদের পাকাবাড়ি নেই তাঁদের ছাদযুক্ত পাকাবাড়ি তৈরি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সবার জন্য গৃহ প্রকল্প নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি উপভোক্তাকে প্রায় তিন লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। এই প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী  ঘর পেতে হলে উপভোক্তাকে সংশ্লিষ্ট শহরের বৈধ বাসিন্দা হতে হবে। জানা গেছে, এই প্রকল্পে উপভোক্তারা ২৫ হাজার টাকা করে জমা করেছিলেন। তারপর প্রথম কিস্তির প্রায় ৭৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন।  বালুরঘাট পুরসভায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭০৪ টি ঘর তৈরি করার বরাত দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরেই উপভোক্তারা তাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে নতুন করে ঘরের কাজ তড়িঘড়ি করে শুরু করে দিয়েছিলেন। কারণ ওই ঘরের কাজ শুরু করে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দিলে তবেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সেই মতো শহরের মানুষ হাজারের বেশি বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে নতুন বাড়ি তৈরি করার কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। তাদের  অনেকেই অন্য কোনও আশ্রয় না থাকায় ভাড়াবাড়িতে বা পাশেই ত্রিপলের ছাউনিতে গিয়ে থাকতে শুরু করেছেন। কিন্তু এক বছর ধরে ওই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না মেলায় অর্ধসমাপ্ত হয়ে রয়েছে বাড়িগুলি। ফলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রচুর মানুষ। শহরের এই ভুক্তভোগী মানুষরা বারবার পুরসভার দ্বারস্থ হলেও তারা কোনও সমাধান পাচ্ছেন না।

- Advertisement -

বালুরঘাট শহরের উত্তমাশা এলাকার ৯০ বছর বয়সি হিরেন বালাদাস প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে বাড়ি ভেঙে ছিলেন। এখন তিনি পাশের বাড়ির ফাঁকা জায়গায় সংসার নিয়ে রয়েছেন। রামকৃষ্ণপল্লী এলাকার ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা সন্ধ্যা মণ্ডল আপাতত তার পরিবার-পরিজন নিয়ে মাঠের মধ্যে রয়েছেন। তিনি অবশ্য দুই কিস্তির টাকা পেয়েছেন। তবে বাড়ি এখনও অর্ধসমাপ্ত। এখনও বাড়ি ফেরা হয়ে ওঠেনি। বাড়িতে থাকার মতো পরিস্থিতিও নেই। তিনি জানান, বাকি কিস্তির টাকা পেলে তবেই কাজ শেষ করে বাড়িতে ঢোকা যাবে। কিন্তু বাকি টাকাটা কবে মিলবে তা জানি না।

এপ্রসঙ্গে, আরএসপি নেতা প্রলয় ঘোষ বলেন, মানুষ নিদারুণ কষ্টের মধ্যে রয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পেয়ে প্রচুর মানুষ কীভাবে ফাঁকা জায়গায় দিন কাটাচ্ছেন না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে তড়িঘড়ি নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলে এখন যে যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন তারা, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমরা এনিয়ে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনের মধ্যে রয়েছি। তৃণমূলের জেলা নেতা সুভাষ চাকি বলেন, বিষয়টি জানি। আমি নিজে এ নিয়ে সুডার সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি যে কেন্দ্র সরকারের যে ২০ শতাংশ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা, তা দিচ্ছে না। এর ফলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা অধিকাংশ মানুষই পায়নি সারা রাজ্যেই। তবে বালুরঘাট পুরসভায় অল্প কিছু মানুষ কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন। আশা করছি মানুষের সমস্যার সমাধান খুব শীঘ্রই হবে। বালুরঘাট পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক অতনু মণ্ডল বলেন,  অক্টোবর মাসের মধ্যেই টাকা আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবে মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। মানুষ কষ্টে আছেন। আমাদের কাছেও  তারা আসছেন, তাদের দেখে কষ্ট হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছি।