বাড়ির টাকা পুরো মেলেনি, ত্রিপলের তলায় দিন গুজরান 

147

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : সরকারি প্রকল্প ভরসা জুগিয়েছিল। হাউজিং ফর অল বা সবার জন্য ঘর প্রকল্পে উপভোক্তাদের সবমিলিয়ে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা মেলার কথা। এই টাকার মধ্যে উপভোক্তারা অবশ্য ২৫ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকাটা সরকারই দেয়। প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৪০ হাজার টাকাটা সময়মতো হাতে এসেও যায়। সেইমতো উপভোক্তারা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ঘর তৈরি শুরুও করেন। আর এরপরই বিপত্তি। বহুবার চেয়েচিন্তেও পুরসভার কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের বাকি টাকা মেলেনি। ফলে সাধের ঘর অসম্পূর্ণই থেকে গিয়েছে। এর জেরে জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক বাসিন্দার কাছে ছাপরার ঘর অথবা কোনওমতে টাঙানো ত্রিপলই ভরসা। বর্ষায় সেই ছাপরার ঘরে বা ত্রিপল চুইয়ে নীচে নামা জলে ভোগান্তির একশেষ। যখন-তখন সাপ-ব্যাং ভিতরে ঢুকে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে।

জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে টাকা না আসাতেই সমস্যা হচ্ছে। দপ্তরে বহুবার চিঠি দিয়ে সমস্যা মেটেনি। জানুয়ারিতে কলকাতা কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলে এসেও কোনও সুরাহা হয়নি। তবে শীঘ্রই টাকা ঢুকবে বলে আশা করছি। তাতে সমস্যা মিটবে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি পুরসভা সূত্রে খবর, ২০১৫-১৬ আর্থিক সাল থেকে এখানে হাউজিং ফর অল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ওই বছর ১,১৯৯ জনকে সরকারি ঘরের টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরের আর্থিক বছরে ১,৬২৫ জন ঘরের টাকা পান।  ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে এই প্রকল্পে কোনও টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় কাউকে ঘর দেওয়া যায়নি। ২০১৮-১৯ আর্থিক সালের প্রথম পর্যায়ে ৪৫০ জনকে ঘরের টাকা  দেওয়া হলেও (এই আর্থিক বছরের টাকা দেরি করে এসেছিল) লকডাউনের কারণে ওই বছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বেশির ভাগ উপভোক্তাকেই ঘরের টাকা দেওয়া যায়নি। তবে এই পর্যায়ে ঘরের জন্য আবেদনের ভিত্তিতে ২,০০০ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। দুই পর্যায় উপভোক্তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৪০ হাজার টাকা পান। কিন্তু তারপর থেকে আর টাকা পাননি। এই সমস্যার মধ্যে পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডের বাসিন্দারা থাকলেও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবি নন্দী পেশায় ভ্যানচালক। বলছেন, এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৪০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে টাকার জন্য আবেদন করলে পুরসভার কর্মীরা ঘরের কাজের ছবি তুলে নিয়ে যান। কিন্তু তারপর থেকে আর টাকা পাইনি। টাকার জন্য তিনবার পুরসভায় তদ্বির করলেও কোনও কাজের কাজ হয়নি। নতুন ঘর তৈরির আনন্দে রবিবাবু তাঁর পুরোনো ঘরটি ভেঙে বসেছিলেন। টাকা না পেয়ে তারপর থেকে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। ত্রিপল এবং ফ্লেক্স দিয়ে কোনওমতে ঘর তৈরি করে তাতে থাকছেন। এলাকার বাসিন্দা সন্ধ্যা পালও প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর মাম্পি সরকার বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২০১৮-১৯ আর্থিক সালের প্রথম পর্যায়ে ৮০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২ জন উপভোক্তা আছেন।  দ্বিতীয় পর্যায়ে উপভোক্তারা প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও প্রথম পর্যায়ে উপভোক্তাদের অনেকেই তা পাননি। এর জেরে তাঁরা ঘর তৈরিতে খুবই সমস্যায় পড়েছেন। সমস্যা মেটাতে আমি বহুবার পুরসভায় গেলেও সমস্যা মেটেনি। ১৩ নম্বর  ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিজিৎ ঘোষের মতো আরও অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছেন। শীঘ্রই সমস্যা মেটানের দাবিতে তাঁরা জোরালো দাবি জানিয়েছেন।