মেখলিগঞ্জে নবজাতকদের নাড়ি কাটছেন বাংলাদেশের দাই

595

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হলেও কোচবিহার জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মেখলিগঞ্জ ব্লকে এখনও বাড়িতে সন্তান প্রসব করানো বন্ধ হয়নি। এই সীমান্ত এলাকার একটি অংশের মানুষের ভরসা বাংলাদেশের দাই। কারণ, দুর্গম ওইসব নদীচর এলাকার বেশ কিছু জায়গায় অ্যাম্বুল্যান্স প্রবেশ করতে পারে না। সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর নজর এড়াতে পারলে সহজেই বাংলাদেশ ছোঁয়া যায়। তাই ওইসব এলাকার বাসিন্দারা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে থাকেন। কুচলিবাড়ি, বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি, নিজতরফ প্রভৃতি গ্রাম পঞ্চায়েতে সীমান্ত লাগোয়া এমন কিছু প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে, যেখানে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বেশি। অনেক স্থানে উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। তাই ওখানকার গর্ভবতী মহিলারা সন্তান প্রসবের জন্য বাংলাদেশের দাইদের উপরই ভরসা করে থাকেন। প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরেই বিষয়টা আসে না। যদিও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্বীকার করেছেন, এই ধরনের একটা কথা তাঁদের কানেও এসেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ক্ষেত্রে মায়েরা এক হাজার টাকা অনুদান পান। পাশাপাশি একবছর পর্যন্ত মা এবং সন্তানের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে মাতৃযান কিংবা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা মেলে। তার পরেও বাড়িতে সন্তান প্রসব একবারে বন্ধ হয়নি মেখলিগঞ্জ ব্লকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্ত এলাকায় তাঁদের যে কত সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে সেটা কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন না। আবার সীমান্তের কুচলিবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল অবস্থার কারণেও কিছু মানুষ ওখানে যেতে চান না বলে অভিযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে হাতের কাছেই রয়েছে বাংলাদেশ। বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে তাই বাংলাদেশি দাইদের ডেকে আনা হচ্ছে। বাংলাদেশের দাইদের দিয়ে প্রসবের বিষয়টি তাঁর কানেও এসেছে বলে স্বীকার করেন মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ তথা কুচলিবাড়ির বাসিন্দা বাপি চক্রবর্তী। যদিও বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলতে চাননি তিনি। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা কুচলিবাড়ির বাসিন্দা জ্যোতিবিকাশ রায় বলেন, রাজ্য সরকারের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্যই সীমান্তের বেশ কিছু মানুষ বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

- Advertisement -

তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে। বাড়িতে সন্তান প্রসবের খবর থাকলেও সেটা সংখ্যায় খুবই কম। অধিকাংশই প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। ২০১৮-১৯ সালের হিসেব অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ছিল ৯৫.৩ শতাংশ। ২০১৯-২০ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.৬ শতাংশ। সম্প্রতি মেখলিগঞ্জের মৃগীপুরে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের বিষয়টি উঠে এসেছিল। জেলা শাসক পবন কাদিয়ান এ নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরকে আরও সক্রিয় হতে বলেন। বাংলাদেশি দাই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিএমওএইচ ডাঃ কৃষ্ণকান্ত মণ্ডল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই মেখলিগঞ্জে স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজ চলছে।