১৭ বছরেও উন্নয়ন অধরা, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ধূপগুড়ির বর্মনপাড়া

329

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : ২০০১ সালের জুলাই মাসে পুরসভা ঘোষণার পর ২০০২ সালে প্রথম নির্বাচিত পুরবোর্ড ক্ষমতায় আসে ধূপগুড়ি পুরসভায়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ১৭ বছরে পাঁচটি পুরবোর্ডের তত্ত্বাবধানে ১৪.২ বর্গ কিলোমিটারে ছড়িয়ে থাকা পুর এলাকায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, আলো থেকে পানীয় জল সরবরাহ সব ক্ষেত্রেই আগের তুলনায় পরিবর্তন চোখে পড়ে। তবে ছোটো এই পুর শহরে এখনও এমন এলাকা রয়েছে যেখানকার বাসিন্দারা নিজেদের পুরসভা এলাকার বাসিন্দা বলে ভাবতে পারেন না। রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, আলো থেকে অন্যান্য পুর পরিসেবা এখনও তাঁদের কাছে অনেকটাই দূরের জিনিস। ধূপগুড়ি পুর এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্মনপাড়া এই পুর এলাকার বুকে থেকেও কার্যত আজও উন্নয়ন থেকে দূরে থাকা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। একদিকে রেললাইন আরেক দিকে কুমলাই নদীর মাঝে পড়ে উন্নয়নের মূলস্রোত থেকে এখনও অনেকটাই দূরে এই এলাকা।

সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ পরিবারে ৫০০-রও বেশি ভোটার রয়েছেন এখানে। একসময় এই এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পুরসভা। সেই কারণে নির্ধারিত জায়গার পাশ দিয়ে কিছুটা রাস্তাও করা হয়েছিল। তবে এত বছরেও চালু হয়নি সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড। রাস্তাটিও আর নেই গোটা এলাকা চষে ফেললেও বহু বছর আগে তৈরি সেই কয়েশো মিটারের রাস্তার চিহ্নই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পুরসভা হওয়ার পর দীর্ঘ বছর ওই এলাকায় য়ানবাহন য়াওয়ার একমাত্র পথ ছিল ধূপগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন পথটি। বিরাট এই এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে ২০১৪-১৫ সালে তত্কালীন পুরবোর্ড বারোঘরিয়া গ্রাম এলাকা দিয়ে কুমলাই নদীর উপর একটি ব্রিজ তৈরি করে বর্মনপাড়া যাওয়ার জন্য। বর্তমানে সেই ব্রিজটিই এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের বড়ো ভরসা। তবে ব্রিজের দুপাশে এখনও তৈরি হয়নি পাকা রাস্তা। ফলে ব্রিজ থাকলেও ভারী যানবাহন দূরের কথা, ছোটো গাড়ি বা দুচাকা নিয়ে যাতায়াত করাই দায়। বর্ষাকালে সেই রাস্তার অবস্থা আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রাস্তার পাশাপাশি এলাকার পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কুমলাই নদীর ধার বরাবর বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এলাকার মানুষের দাবি রয়েছে।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ বর্মন বলেন, আমাদের এলাকায় মূলত গরিব মানুষের বাস। হয়তো এই কারণেই এত বছরেও আমাদের এলাকার সেভাবে উন্নতি হয়নি। বর্তমান কাউন্সিলার এলাকায় আসেন ঠিকই, তবে এখনও রাস্তা, আলো, বাঁধ সহ বহু কাজ বাকি রয়েছে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সরস্বতী রায় বলেন, এত বছর ওই এলাকাটি নিয়ে পুরসভা কিছুই ভাবেনি। ২০১৭ সালে কাউন্সিলার নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বর্মনপাড়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পের দাবি জানাই। বর্ষা গেলেই ওই এলাকায় বেশকিছু কাজ শুরু হবে। পুরসভার চেয়ারপার্সন ভারতী বর্মন বলেন, ২০১২ সালে প্রথম ওই এলাকার দিকে নজর দেওয়া হয়। এক সময় ওই এলাকার মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে রেললাইন পার হয়ে যাতায়াত করতেন। এই কারণে একটি ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। রেল ও বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করেছি। ওই এলাকাটিও আগামী দিনে উন্নত পরিকাঠামো পাবে।