দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে স্কুল ক্যাম্পাসে সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র বিক্রির অভিযোগ

199

ফাঁসিদেওয়া, ১৭ অগাস্টঃ জালাস নিজাম তারা গ্রাম পঞ্চায়েতে দুয়ারের সরকারের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদনপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠল। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসের ভিতরে আবেদনপত্র পূরণ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাই এই কাজ করেছেন। মঙ্গলবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকে দ্বিতীয় পর্যায়ের দুয়ারের সরকার ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের নজরুল শতবার্ষিকী হাই স্কুলে ক্যাম্প করা হয়েছিল। স্কুল ক্যাম্পাসে এবং রাবভিটার একটি জেরক্সের দোকানে আবেদনপত্র জেরক্স করে, ১০ টাকা এবং ২০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। লিউসিপাকড়ির একটি জেরক্সের দোকানের বিরুদ্ধে ১০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদনপত্র ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

যদিও, পরবর্তীতে ব্লক প্রশাসন বিষয়টি জানার পর ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার ক্যাম্পাসে থাকা জেরক্সের দোকানে গিয়ে আবেদনপত্র বিক্রির বিষয়ে নিষেধ করেন। এরপর সেখানে আর নতুন করে আবেদনপত্র বিক্রি করা হয়নি বলে ব্লক প্রশাসন দাবি করেছে। এ বিষয়ে ফাঁসিদেওয়ার বিডিও বলেন, প্রশাসনিক কর্মীরা ছাড়া অন্য কেউ আবেদনপত্র পূরণ করে দেননি। কেউ যদি নিজের কাজে এসে থাকেন, সেটা আলাদা বিষয়। আর ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা একটি জেরক্সের দোকানে আবেদনপত্র বিক্রিতে বাধা দেওয়া হয়। এরপর আর একটিও আবেদনপত্র সেখান থেকে বিক্রি করা হয়নি বলে শুনেছি। আমি নিজেও ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। আর ক্যাম্পের কোনও আবেদনপত্র বাইরে যায়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এরপরও যদি আবেদনপত্র বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

- Advertisement -

লিউসিপাকড়ির জেরক্সের দোকানে সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র বিক্রির অভিযোগ পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে, শেষ পর্যন্ত সেখানে গিয়ে আর আবেদনপত্র পাওয়া যায়নি। সেই কারণে ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সোমবার ফাঁসিদেওয়া হাই স্কুলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের প্রথম দিন ক্যাম্পাসে আবেদনপত্র অবৈধভাবে টাকা নিয়ে বিক্রি এবং পূরণ করার অভিযোগে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এদিনও জালাসে স্কুলের ক্যাম্পাসে ২ জায়গায় কিছু মানুষকে ব্রেঞ্চ পেতে সাধারণ উপভোক্তাদের আবেদনপত্র পূরণ করে দিতে দেখা গিয়েছে। তবে, যারা আবেদনপত্র পূরণ করেছিলেন তাদের জিজ্ঞেস করতেই তারা বলেন, বিনা পয়সায় আবেদনপত্র পূরণ করে দিচ্ছেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে যেখানে সরকারিভাবে প্রত্যেকটি ক্যাম্পে আবেদনপত্র পূরণ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিকভাবে কর্মী রাখা হয়েছে। সেখানে বাইরের মানুষ আবেদনপত্র পূরণ করে দিচ্ছেন?

বিজেপির ফাঁসিদেওয়া মণ্ডল সভাপতি অনিল ঘোষ বলেন, ক্যাম্পে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দিয়ে এই সমস্ত করে মানুষের কাছে ভাল সাজতে চাইছেন। আর কিছুই নয়। মানুষের হয়রানি হচ্ছে৷ আর তৃণমূলের খুচরো কর্মীদের আর্থিক লাভ হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ফাঁসিদেওয়া সাংগঠনিক ১ নম্বর ব্লক সভাপতি মহম্মদ আইনুল হক বলেন, দলের কর্মীদের এই কাজ করতে নিষেধ করা আছে। আমি যদিও ঘটনাস্থলে যাইনি। তবে, কোনও কর্মী যদি নিজের কাজ করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের আবেদনপত্র পূরণ করে দিয়ে থাকেন, এতে দোষ কোথায়? ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর মিলেছে, এদিন জালাস নিজাম তারা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার উপভোক্তারা দুয়ারের সরকারের ক্যাম্পে হাজির হয়েছিলেন। লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ৪ জন মহিলা ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছিলেন বলে খবর।