করোনার জেরে স্কুল বন্ধ, শ্রমিকের ভূমিকায় বহু পড়ুয়া

223

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: অনেকদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে স্কুল। ফলে আপাতত স্কুলে যাওয়ারও কোন ঝক্কি নেই। অনলাইন ক্লাসেরও বালাই নেই। কারণ ওদের বাবা বা মায়ের নেই স্মার্টফোন। তাই সময় কাটাতে সীমান্তবর্তী এলাকার স্কুল পড়ুয়াদের একাংশ খেলাধুলোয় মন দিলেও বাকি একটি বড় অংশই কার্যত শিশুশ্রমিকের ভূমিকা নিয়েছে। উপার্জনের আশায় বা বাড়ির বড়দের সাহায্য করতে পড়া ছেড়ে অনেকেই কাজ খুঁজে নিচ্ছে। খেতের কাজের পারিবারিক পেশাতে শামিল হচ্ছে পড়ুয়ারাও। অভিভাবকরাও জেনেশুনেই বাড়ির খুদে পড়ুয়াদের কাজ করতে ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে শ্রমিক নিয়োগ করার খরচ বাঁচছে।

হলদিবাড়ি ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী খালপাড়া, ফিরিঙ্গিরডাঙ্গা, ডাঙ্গাপাড়া, হেমকুমারী সহ নানা এলাকায় গেলেই এখন হামেশাই এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। করোনা পরিস্থিতির জেরে বর্তমানে স্কুলগুলোতে পঠনপাঠন বন্ধ। আবার কবে স্কুল খুলবে তা নিশ্চিতভাবে কেউই বলতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে বই ছেড়ে পারিবারিক পেশা ঘানিতে তেল উৎপাদনের কাজে হাত লাগিয়েছে স্কুল পড়ুয়া দুই ভাই। প্রতিদিন কাকভোরে উঠে গোরু পিটিয়ে ঘানি ঘুরিয়ে সর্ষের তেল উৎপাদন করছে তারা। কোচবিহার জেলার দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন সীমান্তবর্তী খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হোসেন। তাঁর দুই ছেলে রাসেল হোসেন ও রহিম হোসেন। রাসেল হোসেন দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি জুনিয়ার হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। অন্যদিকে, রহিম হোসেন একই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকায় কাজ করে সংসারে সাহায্য করছে তারা।

- Advertisement -

আমিনুল হোসেন বলেন, সংসারের বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে তিনপুরুষের ঐতিহ্য এই পেশাকে আজও আঁকড়ে ধরে রেখেছি। ঠান্ডা পড়তেই কদর বাড়ে খাঁটি ঘানির তেলের। শিশুর দেহে মালিশের জন্যই এর চাহিদা বেশি। এর জন্য সকাল হতেই বাড়ির সামনে হাজির হচ্ছে ক্রেতারা। পড়ুয়া রাসেল হোসেন জানায়, অনেকদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে আমাদের স্কুল। ফলে স্কুলে যাওয়া ও বই পড়ার তেমন কোনও চাপ নেই। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নেটওয়ার্কের সমস্যা। তাই অনলাইন ক্লাসও করতে হয় না। তাই ঘানির গোরু পিটিয়ে সর্ষের তেল উৎপাদনের কাজ করি। প্রতিদিন দুই ভাই মিলে পাঁচ কেজি সর্ষে ঘানিতে পিষে তেল বের করি। সময় লাগে প্রায় ছয় ঘণ্টা। ভোর থেকে কাজ শুরু করি। এক কেজি সর্ষে থেকে ২৫০ গ্রাম খাঁটি তেল পাওয়া যায়। তেল বিক্রি করে যা টাকা আসে মায়ের হাতে তুলে দিই।