পড়ুয়াদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করতে ঘুরছেন শিক্ষকরা

407

চাকুলিয়া : দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের স্মার্টফোন দিতে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন শিক্ষকরা। কিন্তু দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় কেউ বাইরে কাজ করতে গিয়েছে। আবার কোনও ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন কথা শুনতে হচ্ছে শিক্ষকদের। প্রশাসনের তরফ থেকে স্কুলগুলির কাছ থেকে পড়ুয়াদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আপডেট চাওয়া হয়। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সময় থাকলেও চাকুলিয়ার অনেক স্কুল তা দিতে পারেনি। পরে জানুয়ারির ৪ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হলেও সমস্যা মিটছে না স্কুলগুলির। করোনা আবহে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা বারবার ফোনে চেষ্টা করেও অনেক পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে উঠতে পারছেন না। এতে এলাকার অন্যান্য স্কুলের পাশাপাশি চাকুলিয়া হাইস্কুলও বিপাকে পড়েছে।  পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শিক্ষকরা দিনভর গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, দ্বাদশ শ্রেণির অনেক পড়ুয়া শ্রমিকের কাজে বাইরে চলে গিয়েছে। অনেক ছাত্রীর লকডাউনের মধ্যে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অনেকের বাড়িতে ফোন না থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকুলিয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণির মোট পড়ুয়া রয়েছে ৩৯২ জন। এর মধ্যে ২৯২ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আপডেট পাওয়া গেলেও ১০০ জন পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এক অভিভাবক সুনীতা মুর্মু বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ না করলে আমরা খেতে পাই না। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে আমার ছেলেটা বাইরে গিয়েছে। স্কুল খুললে সে আসবে। আরেক অভিভাবক আবু জাফর বলেন, মেয়েকে কষ্ট করে পড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এতদিন স্কুল বন্ধ থাকায় মেয়ে আর পড়তে চাইল না। তাই তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রিসোর্স পার্সন নুরুল হোদা বলেন, লকডাউনে গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের বেশি সর্বনাশ হয়েছে। অনেক পড়ুয়া পড়াশোনার মূল স্রোত থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকলে সমস্যা আরও বাড়বে। চাকুলিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়ারা পড়াশোনা বাদ দিয়ে শ্রমিকের কাজ করছে। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পড়ুয়াদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবকদের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চাকুলিয়া সার্কেলের বিদ্যালয় পরিদর্শক অঞ্জন পাল চৌধুরী বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে চাকুলিয়া হাইস্কুলের শিক্ষকরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়।