ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালান মর্জিনা

242

প্রিয়া সিংহ, আলিপুরদুয়ার : ইটভাটায় কাজ করে সংসার চালান মর্জিনা বিবি (৪৫)। তাঁর বাড়ি তুফানগঞ্জের বালাভূতে। পেটের দায়ে তিনি বাড়িঘর ছেড়ে আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন একটি ইটভাটায় কাজ করেন। ইটভাটার কাছেই ছোট একটি ঘরে কোনও রকমে দিন কাটান তিনি। প্রথমদিকে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সংকোচ থাকলেও পরবর্তীতে সংসার চালানোর জন্য ইটভাটায় কাজ শুরু করেন তিনি। তবে কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। ইটভাটার কাজে কঠোর পরিশ্রম। তাই প্রথম প্রথম অসুবিধা হত। তবে এখন মাটির দলা ভাঙতে আর আগের মতো পরিশ্রম মনে হয় না। এভাবেই সংগ্রাম করে দিন গুজরান করছেন মর্জিনা বিবি। মর্জিনা জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে স্কুলে পড়াশোনা করে। সংসার চালানোর জন্য তাঁর এই কাজ করা। স্বামী যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। তাই পেটের দায়ে বাড়িঘর ছেড়ে দূরে এসে কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম হয়। তিনি জানান, মাটির দলা জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তারপর সেগুলিকে ভাঙতে হয়। এটা খুবই পরিশ্রমের কাজ। তারপর সেগুলি থেকে ইট তৈরি করতে হয়। হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর প্রাপ্য মেলে খুবই সামান্য। ছয়মাসের হিসাবে তাঁদের বেতন হয়। এক হাজার ইট তৈরি করলে মেলে ৫৭০ টাকা। যা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন মর্জিনা। তিনি বলেন, এই কাজে এসেছি প্রায় ছয়-সাত বছর হয়ে গেল। বছরের ছয়মাস ইটভাটায় কাজ করি। ছয়মাস ইটভাটায় কাজ করার পর আবার বাড়ি ফিরে যাই। তখন কারও জমিতে কাজ করি। এইভাবেই সংসার চালাচ্ছি। প্রথমদিকে এই কাজ করতে অসুবিধা হলেও এখন আর অসুবিধা হয় না। এছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই। সংসার চালাতে হবে তো। বাড়ি থেকে দূরে থাকার জন্য অনেক সময় মন খারাপ করে। তবে সময় পেলে বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।