ডন বসকো মোড়ে সরকারি ভবনে দুষ্কৃতীদের আখড়া

108

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুরনিগমে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ জায়গায় জায়গায় থমকে আছে। শুধু হায়দারপাড়ার মার্কেট কমপ্লেক্সই নয়, ডন বসকো মোড়ে বছর কুড়ি আগে পুরনিগমের নিজস্ব জমিতে মাল্টিপারপাস বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। কেন্দ্রের আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট স্কিম ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম টাউনস (ইউআইডিএসএসএমটি) প্রকল্পের আওতায় এই ভবনের কাজ শুরু হয়েছিল। এখন তা পরিত্যক্ত এবং অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ভূতুড়ে ভবনের জন্য স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন। কেননা সেবক রোডের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল আয়তনের এই ভবন এখন এলাকার দুষ্কৃতীদের নেশার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখন এখানে সারাক্ষণই চলে অবাঞ্ছিতদের আনাগোনা। একসময়ে ভবনটিকে কেন্দ্র করে স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এখন তাঁরা এই ভবন নিয়ে আতঙ্কিত।

ডন বসকো মোড়ে গেলেই নজরে পড়বে এই ভূতুড়ে ভবন। পুরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে এর কাজ শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। শুধু ব্যবসায়ীদের জন্যই নয়, ভবনে মিটিং রুম সহ আরও বেশ কয়েকটি ঘর তৈরি করা হয়েছিল। প্রকল্পের বরাদ্দ টাকায় জোরকদমেই চলছিল বহুতল এই ভবন তৈরির কাজ। প্রকল্পের টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঝপথেই কাজ হঠাৎ করে আটকে যায়। প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এরপর নতুন করে কাজ আর শুরু হয়নি। এরপর এই ভবন তৈরির ব্যাপারে পুরনিগমের আর কোনও উদ্যোগ নজরে পড়েনি। তারপর থেকেই এই ভবন পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। সেখানে এখন দখল নিয়েছে এলাকার নেশাগ্রস্তরা। ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে ঘরগুলি হয়ে উঠেছে অজানা মানুষের থাকার জায়গা। বসছে বিভিন্ন ধরনের নেশার আসর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, দুপুর হতেই ছাদে জুয়ার আসরও বসে যায়। পরিস্থিতি এমনই হয় যে, ওই ভবনের দিকে এখন তাকানো পর্যন্ত যায় না।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা অজয় শর্মা বলেন, সরকারি সম্পত্তি চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখছি। শহরের এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোটি টাকার সম্পত্তি দিনের পর দিন ধ্বংস হতে থাকলেও কারও কোনও উদ্যোগ নেই। সন্ধ্যার পর অন্ধকারে সেখানে যে কী চলে, সত্যি কথা বলতে আমাদের কারও পক্ষেই তা বলা সম্ভব নয়। ভবনের উলটোদিকেই রাস্তার ধারের অংশটি ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। ভবনটিকে কেন্দ্র করে ওই অংশের বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে  রীতিমতো আশঙ্কায় থাকেন। ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর রবি রায় বলেন, মাঝেমধ্যে পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। ভবনটি পুরনিগমের বিদায়ি চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে রয়েছে। যদিও ভবনটি সচল করার ব্যাপারে তাঁর তরফে কোনও উদ্যোগই বিশেষ নজরে পড়ল না। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর দিলীপ সিং বলেন, প্রকল্পের টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভবনটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। আমরা ভবনের আউটলেটগুলি বিক্রি করার চেষ্টা চালাচ্ছি।